মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
খরস্রোত তিস্তা নদীর ভরা মৌসুমে বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি, মানুষের বসতি,আবার শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে হাজার হাজার একর জমি মরুভূমিতে পরিনিত হয়।তিস্তা পাড়ের মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে এবার সরকারের মহা পরিকল্পনা গ্রহন।
লালমনিরহাট জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা খরশ্রোতা তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।উজানের পাহাড় থেকে নেমে আসা তিস্তা নদীতে ভারত একাধিক বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুত উৎপাদন ও পানি প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশ অংশে শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদী মরুভূমিতে পরিনিত হয়।ফলে তিস্তার দুই পারে হাজার হাজার একর ফসলি জমি সেচ সুবিধার অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে,উত্তরাঞ্চলের তিন জেলার তিস্তা পাড়ের মানুষ মঙ্গার অভিশাপের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে, তিস্তা পানি পেতে ভারত কে রাজি করান।কিন্তূ গত আট বছর যাবত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতায় সেই চুক্তি বাস্তব রূপ দেখেনি। তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তিস্তার জলের জন্য ভারতের মুখাপেক্ষী না থেকে তিস্তা নদী কে ঘিরে মহা পরিকল্পনা গ্রহন করেন।
তিস্তা নদীর দুইপাড় ঘিরে নদী শাসন করে ফসলি জমি উদ্ধার,নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করে শুকনো মৌসুমে জল ধরে রেখে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি,নদীর দুই তীরে রিভার ড্রাইভ নির্মান,দেড়শত মেগাওয়াট সৌর বিদ্যূত প্লান্ট নির্মান,নদীর তীরে অর্থনৈতিক জোন নির্মান,ভ্রমন পিপাষুদের জন্য হোটেল,মোটেল নির্মান সহ পর্যটন শিল্প গড়ে উঠতে চায়না পাওয়ার কোম্পানি কে দিয়ে জরিপ কার্যক্রম চালানো হয়,চায়না পাওয়ার কোম্পানি দীর্ঘ দুই বছর সমীক্ষা শেষে ৮৫০০কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রপোজাল সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে জমা দেন।বর্তমানে প্রকল্প প্রপোজাল বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় আট হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যায় ধরে অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেকে) পাঠিয়েছেন।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড খুব অল্প সময়ের মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবেন।
লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, তিস্তা নদী কে ঘিরে সরকার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটের আর্থ- সামাজিক পেক্ষাপট আমূল পরিবর্তন আসবে, এর সুফল প্রতিবেশী জেলা নীলফামারী ও রংপুর জেলার তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষ পাবেন।
খরশ্রোতা তিস্তা নদীর মোট দৈর্ঘ্য ৩১৫কিঃমিঃ,যার ২১২ কিলোমিটার ভারতে,১১৩কিঃমিঃ রয়েছে বাংলাদেশ অংশে।ভারতের সিকিম রাজ্যে তিনটি জলবিদ্যুত প্রকল্প স্থাপন ও পশ্চিমবঙ্গ অংশে দুটি জলবিদ্যূত কেন্দ্র নির্মান করায় তিস্তা নদীর পানি থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হচ্ছে।এছাড়া প্রতিবছর উজান থেকে বিপুল পরিমান পলি টেনে নিয়ে আসায় বাংলাদেশ অংশে নদী ভরাট হয়ে গেছে।ফলে ভরা মৌসুমে ভারত পানি ছেড়ে দিলে তিস্তার দুকূল ছাপিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে সৃষ্ট হয় বন্যা,হাজার হাজার একর ফসলি জমি নষ্ট হয় এতে।শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে তিস্তা নদীর দুইপাড় হাজার হাজার একর জমি মরুভূমিতে পরিনিত হয়।এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীর প্রশস্থতা দশ কিলোমিটার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার নেমে আসবে এতে ৮৮০বর্গ কিলোমিটার আবাদি জমি উদ্ধার হবে,বছরে ২০হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদিত হবে।খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।নদীর দুই পাড়ে ২২০কিলোমিটার রিভার ড্রাইভ নির্মিত হবে,এই রিভার ড্রাইভ দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে,নদী খনন করে এর গভীরতা বৃদ্ধি করা হবে এতে শুকনো মৌসুমে জল ধরে রেখে সেচ কার্যক্রম চালানো হবে।উদ্ধারকৃত ভূমিতে হোটেল,মোটেল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মান করে এই অঞ্চলে পর্যটন শিল্প সম্প্রসারণ সহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।শিল্পাঞ্চলের জন্য একশত পঞ্চাশ মেগাওয়াট বিদূত উৎপাদন করা হবে,এই বিদ্যূত সৌর প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত হবে।
সরকারের এই মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে উত্তরের লালমনিরহাট জেলা সহ নীলফামারী,রংপুর জেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে,গড়ে উঠবে শিল্প কারখানা।এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় তিস্তা নদীর দুই পারের মানুষ অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে সরকারের দিকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.