মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
শরৎ ঋতুর শেষ কটা দিন যাবার আগে অপরিনাম দর্শী এবারের বন্যায়, বাংলাদেশের শস্য ভান্ডারখ্যাত, উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলোর ন্যায় লালমনিরহাটের কৃষকের মুখে হাসি নেই।দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে এই বন্যায়, কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে,তারা বলছেন এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠা কষ্টকর।
মৌসুমের শেষ সময়ে পঞ্চমবারের মত বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন।করোনা দুর্যোগ কাটিয়ে একে একে চারবার বন্যার পানিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হবার পর,আশ্বিনের শেষ সময়ে বন্যা হবার সম্ভবনা নেই এমন আশংকায় এই অঞ্চলের কৃষক নতুন করে শীতের সব্জী,পাতা কফি, ফুল কফি, মুলা, পালং শাক,সিম আমন ধান রোপন করে।অসময়ে এই বন্যায় কৃষকের শেষ স্বপ্নটুকু ধূলিসাৎ হলো।
টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ আমন তলিয়ে গেছে,শব্জীর জমিতে পানি উঠায় গাছের গোড়া পচেঁ গেছে,পাতা কপি, ফুল কপির গোড়া পচেঁ গেছে।তলিয়ে যাওয়া ধানের জমিতে পানি তিন /চারদিন স্থায়ী হলেই অধিকাংশ জমির ধান নষ্ট হবার সম্ভবনা বেশী।এই সময়ে নতুন করে ক্ষতি পোষানো সম্ভব হবে না বলে কৃষকরা জানান।
লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি থানায় ৮৫হাজার হেক্টর জমিতে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল,গত মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় এবার কৃষক দুই হাজার হেক্টর বেশী জমিতে ধান চাষাবাদ করেছে।জেলার ৫হাজার হেক্টর উঁচু জমিতে শীতের শব্জী চাষাবাদ করা হয়েছে।জেলায় পঞ্চমবারের বন্যায় শীতের সব্জীর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে,অধিকাংশ জমির শব্জী গাছতলায় পানি জমে গাছের গোড়া পচেঁ গাছ মরে যাচ্ছে।
প্রতিটি শব্জির জমিতে সার,ঔষধ,বীজ কীটনাশক,খরচ করে জমি তৈরী করা হয়েছে।এই বন্যার কারনে সবচেয়ে শব্জী চাষীরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা এনামুল কবীর জানান করোনা কালীন কৃষি চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল,সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুন করে জেলার কৃষকরা চাষাবাদ শুরু করেছিলেন,কিন্তূ পঞ্চমবারের বন্যায় জেলার কৃষকদের সেই সম্ভবনা নষ্ট হয়ে গেল।
তাই কৃষক ভাইদের জন্য পরামর্শ বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে ধানের জমিতে পোকা মাকড় আক্রমণ করতে না পাড়ে,শব্জীর জমিতে গাছের গোড়া শক্ত করতে ভিটামিন দিতে হবে ।ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবার কারনে এবার শাক সব্জীর বাজার মূল্য বেশী যাবে।কারন একে একে চার পাঁচবার শব্জীর জমিতে চাষ, বীজ, সার, ঔষধ ,কীটনাশক খরচ করতে হয়েছে ফলে শব্জীর উৎপাদন মূল্য দ্বিগুণের বেশী হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের দাবী সার,বীজ,কীটনাশক সরকারের থেকে সহযোগীতা পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারতো।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.