অনলাইন ডেস্ক ।।
বৈশ্বিক মহামারী করোনার বিপর্যয় মোকাবেলা করে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত। সচল হয়ে উঠছে এ খাতের ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রাণ ফিরছে পর্যটনশিল্পে।
দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাতায়াত বাড়ছে পর্যটকদের। সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ও সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাঙামাটি আর বান্দরবানসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানও মুখরিত হয়ে উঠছে। হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউসে খালি রুম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পর্যটকদের জমজমাট উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা জমে উঠছে।
মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের আগমন ঘটছে উল্লেখযোগ্য হারে। পর্যটকদের আগমন ঘিরে নিরাপদ ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মহিবুল হক বলেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটক এরই মধ্যে অনেক বেড়েছে। দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কক্সবাজার ও কুয়াকাটাতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটক এখন অনেক বেশি। ফলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে পর্যটন খাত। তিনি জানান, করোনাকালে পর্যটন ব্যবসা সচল রাখতে একটি নীতিমালাও করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে সচেতনভাবে বেড়াতে যান, সেজন্য সরকারেরও ব্যাপক প্রচারণা আছে।
পর্যটন খাতের উদ্যোক্তাদের অন্যতম সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-টোয়াব সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটনশিল্প চাঙ্গা হতে শুরু করায় উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। এতে দেশীয় পর্যটন খাত লাভবান হচ্ছে। অংশীজনরা ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এক কথায় পর্যটন খাতে কর্মযজ্ঞ বাড়ছে। তার মতে, জনজীবন যখন স্বাভাবিক হবে, স্বস্তি ও শান্তিময় হবে, তখনই মানুষ ঘুরে বেড়াবেন। আগামীতে এক কোটির বদলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ঘুরে বেড়াতে পারেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাকালে ঘর থেকে বেরুতে পর্যটনমুখী হয়ে আছেন অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা। তারা আস্তে আস্তে ঘুরতে বেরও হচ্ছেন। কেউ যাচ্ছেন সমুদ্রে। কেউ যাচ্ছেন পাহাড় কিংবা সমতলের দর্শনীয় স্থানগুলোতে। এক কথায় বদ্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির উঞ্চতা খুঁজছেন। ফলে জমে উঠছে দেশের পর্যটনশিল্প।
স্থানীয় পর্যটকদের পদচারণায় এরই মধ্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এবং সাগরকন্যা খ্যাত আরেক সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা।
পর্যটন নগরী ও সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটকদের জন্য খুলেছে গত ১৭ আগস্ট। এর আগেই খুলেছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। দেশের অন্য দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের সরব উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। আকাশপথে অধিক যাত্রী পরিবহনের তথ্য মিলেছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দেশ-বিদেশে আসা যাওয়ার মধ্যদিয়ে পুরো পর্যটনশিল্প ঘুরে দাঁড়াবে।
কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, এখনই কোথাও রুম খালি নেই। দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে এখন সবাই বেড়াতে এসেছেন। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে পর্যটন খাতের অবস্থা রমরমা। পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে কক্সবাজারে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, পর্যটকদের নানা ধরনের সেবা প্রদানের জন্য করণীয় বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। এতে ট্যুর অপারেটর, ট্র্যাভেল এজেন্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ, এয়ারলাইনস, ট্যুরিস্ট কোচসহ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত নানা পক্ষের জন্য আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর থেকে যেসব স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে সেগুলো মানা ছাড়াও পর্যটকদের ভ্রমণে যাওয়ার আগে অনলাইনে বুকিং ও অর্থ পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে। বড় দলে ভ্রমণের পরিবর্তে কম সদস্য ও পারিবারিক ভ্রমণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সেবা গ্রহণের পূর্বে হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহন, গাইড, স্যুভেনির শপ ইত্যাদির কভিড-১৯ বিষয়ে নিরাপত্তা বিধানের সক্ষমতা রয়েছে কিনা তা যাচাই করে বুকিং দেওয়া, হোটেলে অবস্থানকালে বহিরাগত কারও প্রবেশ নিরুৎসাহিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিয়ম না মানলে পর্যটকদের জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। কেউ যদি মাস্ক না পরে কোথাও যান, তাহলে তাকে জরিমানা গুনতে হবে। এ জন্য মোবাইল কোর্ট, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং প্রশাসন নজরদারি করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.