মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
শীতের সব্জির দাম না পাওয়ায়, লালমনিরহাট জেলার হাজার হাজার কৃষক পথে বসেছে।এনজিওর ঋনের টাকায় চাষাবাদ করে মূলধন ফেরত না পাওয়ায়,ঋন পরিশোধে কৃষক এখন দিশেহারা।
উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাট শীতের শ্বাক সব্জির জন্য বিখ্যাত,জেলার উঁচু জমিতে শীতের সব্জি চাষাবাদ করে, দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে লাভবান জেলার হাজার হাজার চাষী।বিগত কয়েক বছরে শীতের সব্জি চাষাবাদ করে জেলার পাঁচটি উপজেলার হাজার হাজার কৃষক অর্থ- নৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।অধিক ফলন হওয়ায় শব্জির দাম না পেয়ে এবার সেই চাষীদের মাথায় হাত।অপরদিকে বিভিন্ন এনজিওর ঋন পরিশোধের কিস্তির চাপে দিশেহারা।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী মোগল হাট ইউনিয়নের কয়েকজন শব্জি চাষীর সাথে কথা হলে, তারা তাদের অবর্ণনীয় দুর্দশার কথা জানান।অতি বৃষ্টি ও বারবার বন্যায় ফসলের বারবার ক্ষতিসাধনের পর,শব্জি চাষীরা রীতিমত ঘাম ঝড়িয়ে চাষাবাদ অব্যাহত রাখেন, এতে অতিরিক্ত সার,বীজ,কীটনাশক সহ কৃষি শ্রমিকের ব্যাবহার বেশী হওয়ায় শীতের শব্জি উৎপাদনে এমনিতেই খরচ বেড়ে যায়।উৎপাদন খরচ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাবার পরেও চাষাবাদ অব্যাহত রাখেন নতুন আশায়।কিন্তু শীতের শব্জির মূল্য না পাওয়ায় পথে বসেছেন হাজার হাজার কৃষক।
মোগলহাট ইউনিয়নের কর্নপুর এলাকার কৃষক সেকান্দার আলী, বেসরকারি সংস্থা ব্রাক, ই,এস, ডিও, থেকে ২,৪০০০০ টাকা ঋন নিয়ে ১৫বিঘা জমিতে ৭০,০০০হাজার ফুল কপি চাষাবাদ করেন।প্রতি বিঘা জমিতে ৪৫০০ফুল কপি চারা লাগান, এতে বিঘা প্রতি ২৫০০০হাজার টাকা খরচ হয়, প্রতিটি কপি উৎপাদনে ছয় টাকার মত তার খরচ হয়,শব্জির মূল্য না থাকায় গড়ে দুই থেকে তিনটাকা দরে বিক্রি করছেন।১৫বিঘা জমিতে ৭০হাজার ফুল কফি চাষাবাদে চার লাখ টাকা খরচ করে সর্ব সাকুল্যে ২০০০০০লক্ষ টাকার মত মূলধন ফেরত পাবেন।
এনজিওর টাকায় ফুলকপি চাষ করে ০২ লক্ষ টাকা লোকসান করে এখন কৃষক সেকেন্দার দিশেহারা।একই অবস্থা মোগলহাট ইউনিয়নের ইটাপোতা গ্রামের নুরজামাল মিয়ার (৩৩),আট বিঘা জমিতে ৩০,০০০ ফুলকপি চাষাবাদ করেন, এতে তার খরচ হয় ১,৯২,০০০টাকা।শীতের শুরুতে পাঁচ হাজার ফুলকপি ১০টাকা দর বিক্রি করেন পঞ্চাশ হাজার টাকা, কিন্তু বর্তমানে ০২টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে, বাকি ২৫হাজার বিক্রি করে সর্ব সাকুল্যে এক লক্ষ টাকা উঠবে,এতে তার লাভের পরিবর্তে ৯২হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
শীতের সব্জির সবচেয়ে করুন দশা মূলা চাষীদের, বর্তমানে প্রতি মন মুলা বিক্রি হচ্ছে চল্লিশ টাকা দরে। এক মন মুলা কৃষি শ্রমিক দিয়ে উঠাতে এবং হাটে বাজারে পাঠাতে যে খরচ হয় সেই টাকা বিক্রি করে উঠেনা,ফলে মূলার জমিতে কৃষক হাল চাষ দিচ্ছে মনের দুঃখে। ছোট ছোট প্রান্তিক এই কৃষক দের কৃষি ঋন পেতে যত ঝাক্কি ঝামেলা পেতে হয়, বাধ্য হয়ে তাই বেশী সুদে এনজিওর থেকে ঋন গ্রহন করে এসব চাষী,আশা নিয়ে শীতের শব্জি চাষ করে হাজার হাজার কৃষক আজ দিশেহারা।
কৃষকদের দাবী বাজার ব্যাবস্থার সুষ্ঠ তদারকি না থাকায় যখন মূল্য থাকে তখন মধ্যস্বত্ব ভূগীরা এর মুনাফা পায়,আবার যখন বাজার পড়ে যায় তখন কৃষকের পাশে কেউ থাকে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.