আঁধার পেরিয়ে আলো ঝলমলে বাংলাদেশ

শেখ আল মামুন ।।
২০০৬ সালেও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট ছিল মানুষ। বিদ্যুতের জন্য ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু গত এক যুগে পুরোপুরি বদলে গেছে দৃশ্যপট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ এখন আলোর বন্যায় ভাসছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশের মাত্র ৪৭ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় ছিল। ২০২০ সালে এসে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ উপভোগ করছে দেশের ৯৬ শতাংশ মানুষ। ৪১০ উপজেলায় শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাকি উপজেলাগুলোতেও দ্রুত এগিয়ে চলেছে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ। ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের আগেই দেশের প্রতিটি মানুষের ঘর বিদ্যুতের আলোতে ঝলমল করবে।
অথচ, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনায় এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ করা হয়। কিন্ত পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত সরকার তা কমিয়ে ফেলে দেশকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয় মাত্র ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আবারও সরকারে এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষের ঘরে ঘরে আলো পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই স্থবিরতা অতিক্রম করে আজ বিদ্যুৎ উদপাদন ২৩ হাজার মেগাওয়াট করে অতিক্রম করে গেছে।
২০০৯ সালে সারা দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক ছিল মাত্র ১ কোটি ৮ লাখ। এখন গ্রাহকের সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। গত এক যুগে আড়াই কোটিরও বেশি বাড়িতে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই সময়ে প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে সরকার। এমনকি সাগরের তলদেশ দিয়ে ১৫ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করে সন্দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপেও বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছানো হয়েছে।
বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য শেখ হাসিনার নির্দেশনায় নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার।
