ঘাটাইলের ভূমিদস্যু দুলাল বাহিনীর জমজমাট মাটির ব্যবসা

মোশারফ হোসেন মুরাদ, টাংগাইল প্রতিনিধি:
টাংগাইলের ঘাটাইল,মধুপুর এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের ফাঁদে ফেলে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে ইটের ভাটায়।
একাধিক দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করে আসছে রাতের অন্ধকারে প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই।কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না তাদের এ অবৈধ কর্মকাণ্ড।
ঘাটাইলের লক্ষিন্দর ইউনিয়নের ছলিং এলাকার মোঃদুলাল মিয়ার (পোল্ট্রি দুলাল) সিন্ডিকেট এ অঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর।ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তার ১৫-২০ জনের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী।যেদিন যে এলাকা থেকে মাটি কাঁটা হয় সেদিন ঐ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মহড়া দেয় তার বাহিনী।কোথাও কেউ বাঁধা দিতে গেলেই সেখানে ছুটে যায় তারা।বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবাদকারীদের থামিয়ে রাখে এই বাহিনী।দুলাল বাহিনীর সদস্যরা এলাকার চিন্হিত সন্ত্রাসী ও প্রবাভশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।
মধুপুরের মহিষমারার আজগর আলি,আউশনারার ফজর আলী,ময়মনসিংহ ফুলবাড়িরার নাওগাও ইউনিয়নের ছবুর মিয়া ও এনায়েতপুরের কাসেম আলী জানান,দুলাল অনেক দিন ধরে মাটির ব্যবসা করে যাচ্ছে।তার বাহিনী রাতের আধারে ড্রামট্রাক দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যায়।বিভিন্ন ফসলি জমির উপর দিয়ে ডাইভেশন করে রাস্তা তৈরি করে জমি মালিকের অনুমতি না নিয়েই। এতে করে আামাদের এলাকার কৃষি জমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কাঁচা পাকা সড়কের সাভাবিক ভারসাম্য হাড়িয়ে ফেলছে।ফলে বিভিন্ন জায়গায় দূর্ঘটনা ঘটে এলাকার লোকজনের চলাচলের নানা ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।তাদের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অনেক ভোগান্তিতে আছে। আরো অনেক লোক আছে যে তারা দুলাল চক্রের ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লক্ষিন্দর ইউনিয়নের কয়েকজন জানান,এখন দুলালের অনেক টাকা হইছে।তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায়না।বড় বড় নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা এখন দুলালের পকেটে থাকে।
ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকতা মোছাঃ দিলশাদ জাহান বলেন,টপ সয়েল হল কৃষি জমির প্রাণ।উর্বর এ মাটি কেটে বিক্রি করলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাবে এবং জমিতে ফসল ফলানোর ধারণ ক্ষমতা কমে যাবে।
ঘাটাইলের ইউএনও সোহাগ হোসেন বলেন, মাটি কাটার শুনেছি আমরা তদন্ত করে দ্রত আইনগত ব্যবস্থা নেব।
