লালমনিরহাটে বিএনপির দুর্গ অটুট রাখতে ফুটবল কে তুরুপের তাশ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন দুলু

জেলা প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট সদর আসনে বিএনপির শক্ত দুর্গ ধরে রাখতে,ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে সরকার বিরোধী রাজনিতী অটুট রেখেছেন আসাদুল হাবিব দুলু। ব্যাতিক্রম ধর্মী এই ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে বিএনপির মহাসচিব থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আগমন ঘটছে,ফলে জাতীয় রাজনিতীর টপ অফ দ্যা পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম কলেজ মাঠের ফুটবল টুর্নামেন্ট।
রাজনিতীর মাঠে পাকা খেলোয়াড় হিসেবে রংপুর বিভাগের আট জেলায় অপ্রতিদ্বন্দী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।২০০১সালের নির্বাচনে প্রথম বার নির্বাচিত হয়েই উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন,তৃনমুল বিএনপি সুসংগঠিত করার পাশাপাশি দুলুর সাংগঠনিক দ্যূতি ছড়িয়ে পড়ে পুরো জেলায়,ফলে লালমনিরহাট জেলায় বিএনপির একক নেতা হিসেবে তার প্রভাব বিস্তৃতি পায়।তৃনমুল পর্যায়ে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মী দের কাছে আসাদুল হাবিব দুলুর জনপ্রিয়তা একচ্ছত্র ভাবে প্রতিষ্ঠা পায়।পাশাপাশি বিরোধী দলকে সেইসময় শক্ত হাতে দমন করার অভিযোগ ছিল উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর বিরুদ্ধে।
১/১১ র সেনা শাসিত সরকার দুর্নীতির মামলা দায়ের করলে কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিয়ে থাকেন সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।২০০৮সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং মহাজোট প্রার্থী জি,এম কাদের এর নিকট অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি জামাত জোটের নির্বাচন প্রতিরোধ কর্মসূচীর তান্ডবে সরকার বিরোধী শক্ত প্রতিরোধ গড়ে উঠে আসাদুল হাবিব দুলুর নিজস্ব ইউনিয়ন বড়বাড়িতে,সেই সময় জাতীয় রাজনিতীর দৃষ্টি পেতে রংপুর- কুড়িগ্রাম মহাসড়কের বড়বাড়িতে সড়ক অবরোধ করে বিএনপির নারী কর্মী দিয়ে মহাসড়কে রান্না,ধান শুকানো,শিশুদের ক্লাশ নেওয়া হয় যা জাতীয় রাজনিতীতে ব্যাপক আলোচিত হয়। সেই সময় নির্বাচন প্রতিহত করা, সদর আসনে ভোট কেন্দ্র জ্বালিয়ে দেওয়া সহ ২৬টি কেন্দ্রে কোন ভোটার উপস্থিত হতে পারেননি আসাদুল হাবিব দুলুর নির্দেশে।
২০১৮সালের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলে,সদর আসনের মনোনয়ন পান বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।নির্বাচনের নিরেপেক্ষতা নিয়ে যদিওবা বিএনপির অভিযোগ রয়েছে,তথাপি মাত্র দুঘন্টায় গেরিলা কায়দায় বিএনপির নেতা কর্মী ও সমর্থকরা ৭৯ হাজার ভোট প্রদান করে আসাদুল হাবিব দুলুকে।বেলা ১২টার পরে ভোটকেন্দ্র গুলোতে বিএনপির নেতা কর্মীরা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারলে ফলাফল ভিন্ন হবার সম্ভবনা ছিল বলে দাবী করে বিএনপির সমর্থকরা।
বর্তমান সরকার ধারাবাহিক তৃত্বীয় মেয়াদে তের বছর পার করল,এই দীর্ঘসময়ে অগ্নি সন্ত্রাস,অবরোধ,রেল লাইন উপরে ফেলা,সরকার বিরোধী নানা কর্মকান্ডে বেগম জিয়া,মির্জা ফখরুল সহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনেকেই কারাবরন করেছেন,রংপুর বিভাগের আটজেলায় বিএনপি জামাত জোটের শক্ত প্রতিরোধ গড়ে উঠলেও গত তের বছরে অর্ধশতাধিক মামলা নিয়ে একদিনের জন্য কারাবরন করতে হয়নি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল হাবিব দুলুকে।এর পেছনে রয়েছে এই নেতার কৌশলী অবস্থান।
জাতীয় নির্বাচন যত সামনে ঘনিয়ে আসছে বিএনপি রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে,সেই লক্ষ্যে লালমনিরহাট জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম বেগবান করতে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন,সরকারের দৃষ্টি ঘুরিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনের কুরুক্ষেত্র লালমনিরহাট কে বানাতে ফুটবল কে তরুপের তাশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।বিএনপির ব্যানারে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন উপলক্ষে, রংপুর বিভাগের আট জেলার বিএনপি নিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে।এই টুর্নামেন্টের আটটি টিম ও সকল দর্শক বিএনপি সমর্থিত নেতা কর্মী, আয়োজক লালমনিরহাট জেলা বিএনপি,টুর্নামেন্টের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে প্রতিটি ম্যাচে উপস্থিত হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।এই টুর্নামেন্ট কে জাতীয় রাজনিতীর দৃষ্টি দিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,ধারাবাহিক ভাবে অতিথি হয়ে খেলার মাঠে আসেন কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবীর রিজভী,মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,ঢাকা মহানগর বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন।২৬মে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় নেতা কর্মীদের চমক দিতে ভার্চুয়াল বক্তৃতা দেবার কথা রয়েছে বিএনপির ভবিষ্যত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ফুটবল খেলার অতিথি হয়ে এসে জাতীয় রাজনিতী ও সরকার বিরোধী বক্তৃতা বিবৃতি দেওয়ায় খেলার মাঠ এখন রাজনিতীর কেন্দ্রস্থল পরিনিত হয়েছে।
আগামী নির্বাচন কে সামনে রেখে আসাদুল হাবিব দুলু ইউনিয়ন বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে ধারা বাহিক ভাবে ইউনিয়ন সম্মেলন সুসম্পন্ন করেছেন এবং পাশা পাশি জাতীয় রাজনিতীতে অবদান রাখতে রংপুর বিভাগের আট জেলার বিএনপিকে ফুটবল দিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে।অপরদিকে ক্ষমতাসীন দলে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন কে ঘিরে নিস্প্রান তৎপরতা আর গ্রুপিং প্রকাশ্যে রুপ নেওয়ায় সুবিধা জনক অবস্থায় রয়েছে, ভোটের পাকা খেলোয়াড় আসাদুল হাবিব দুলু।
