লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের দায়ে মাইন উদ্দিন ও সহযোগিতা করায় হালিমা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। এসময় আসামিদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইদুর রহমান গাজী এ রায় দেন।
আদালত ধর্ষণের শিকার তরুণীর ১১ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে রাষ্ট্রীয় খরচে লালন-পালনের জন্য জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেয়। এছাড়াও তরুণীর স্বামী ও কন্যা সন্তান তার পিতা হিসেবে আসামি মাইন উদ্দিনের পরিচয় বহন করার জন্য বলা হয়।রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মাইন উদ্দিন সদর উপজেলা শাকচর গ্রামের রহিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ও হালিমা খাতুন একই বাড়ির প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শাকচর গ্রামের মাইন উদ্দিন তরুণীর সম্পর্কে চাচাতো ভাই। প্রায় সে তাদের ঘরে আসা-যাওয়া করতো এবং তাকে বিভিন্ন সময় খারাপ প্রস্তাব দিতো। এতে রাজী না হওয়ায় তাকে বিয়ে প্রস্তাব দেয়। পরে ২০০৫ সালের ১০ এপ্রিল রাতে একই বাড়ির প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী হালিমা খাতুনের শ্বাশুড়ী বাড়িতে না থাকায় তার সাথে রাতে ঘুমানোর জন্য তরুণীকে নিয়ে যায়। ওই রাতে হালিমার সহযোগীতায় মাইন উদ্দিন ঘরে আসে। তাকে দেখে তরুণী চিৎকার করে উঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। কিছুদিন পর তরুনীর গর্ভে সন্তান আসে। স্থানীয় ব্যক্তিরা বাড়িতে এসে ঘটনার সত্যতা পায়। ওইসময় মাইন উদ্দিন ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে। ২০০৫ সালের ৩০ অক্টোবর ৭ মাস অন্তসত্ত্বা তরুণী বাদি হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-গ্রহণ ও শুনানী শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত এ রায় দেন।
জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আবুল বাশার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.