ডাঃ রেহানা আলম,চট্টগ্রাম।।
আমাদের পৃথিবী এখন মহা দূর্যোগ কালীন সময় অতিবাহিত করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে আমাদের দেশের মানুষ অন্যান্য দেশের মানুষের তুলনায় অসচেতন। যেহেতু এখন এই ভাইরাসটির কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে তাই ধৈর্য না হারিয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতায় পারে আমাদের এই মহামারী থেকে রক্ষা করতে তাই আমাদের উচিৎ আগের চেয়ে আরো বেশি সচেতন হওয়া ----খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন না হলে বাসার বাইরে যাবেননা। যদি বাসার বাইরে যেতে হয় বাসায় এসে সাথে সাথে আপনার সাথে বহন করা প্রত্যেকটা জিনিস ব্লিচিং পাউডার আর পানির দ্রবণ দিয়ে ভালভাবে স্প্রে করে পরিষ্কার করে নিবেন। বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে সাবান দিয়ে ভাল ভাবে হাত না ধুয়ে কোন কিছু স্পর্শ করবেননা।
প্রতিদিনের ব্যবহার যোগ্য জিনিস যেমন মোবাইল, পাওয়ার ব্যাংক, চশমা, মানি ব্যাগ এমন কি জুতা টা ও বাইরে থেকে এসে ব্লিচিং পাউডারের দ্রবণ দিয়ে স্প্রে করে নিবেন অথবা দ্রবণটিতে একটা কাপড় ভিজিয়ে পরিষ্কার করে নিবেন।
একে অন্যের সাথে কোলাকুলি, হ্যান্ডাশ্যাক, করা থেকে বিরত থাকবেন।অন্যের পরিধেয় কোন কিছু ব্যবহার করবেননা।যেখানে সেখানে থুথু ফেলবেননা। জনসমাগম এড়িয়ে চলবেন।গনপরিবহন এড়িয়ে চলবেন। রান্নার আগে ভালভাবে আপনার খাবার ধুয়ে নিবেন এবং ভালভাবে সিদ্ধ করে তারপর খাবেন।জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন তবে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে চিকিৎসকের চেম্বার / হাসপাতালে না যাওয়া উচিৎ। মাস্ক ব্যবহার করবেন। হাচিঁ কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করবেন এবং সেটি ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলবেন। ব্যবহার করা কাপড় বেশিদিন জমিয়ে রাখবেন না। যতটা সম্ভব পুষ্টিকর খাবার যেমন সবুজ শাক সবজি, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন ( ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে লেবু, টমেটো, কাচা মরিচ, কামরাঙা, আমলকী ইত্যাদি) যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দিনটি পালন করবেন।এই দিনে কোলাকুলির পরিমান বেড়ে যায় যতটা সম্ভব সামাজিক দুরত্ব মেনে চলবেন।আমাদের চট্টগ্রামের মানুষ একটু বেশি অতিথি পরায়ন এই ঈদে এটা থেকে বিরত থাকবেন। বেশি ফুটানি না করায় উত্তম। বুঝতে হবে আমাদের চট্টগ্রামে আক্রান্ত এবং মৃত্যু হার বেশি।ঈদেরছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। ঈদের শপিং এর জন্য শপিং মলে যাবেননা নিজের কাছে সুন্দর যে জামাটা তোলা আছে সেটি দিয়ে ঈদ উদযাপন করবেন।মনে রাখবেন আমাদের দেশের অনেক হতদরিদ্র মানুষ বছরের পর বছর এভাবেই ঈদ পালন করে আসছে।আমি আপনি এই এক বছর পুরাতন কাপড় দিয়ে ঈদ করলে জাত যাবেনা। যদি বেচেঁ থাকি ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে আগামী বছর ভালভাবে ঈদ উদযাপন করব।
আল্লাহ পৃথিবীর সকল মানুষকে হেফাজতে রাখুক।
ডাঃ রেহানা আলম
প্রধান চিকিৎসক
জে. কে. হেলথ্ কেয়ার সেন্টার।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.