শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
বয়সের ভারে নুয়ে পরা শরীরটা তবুও চলতে থাকে অনবরত পেটের টানে এবং পরিবারের টানে। বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া হাড্ডিগুলোও কিছুক্ষণ বিশ্রাম চায়, ডুপ্লেক্স বাড়ির এসি রূমে না হোক একটা ভাঙা ছনের ঘড়ে হলেও শুইয়ে কাটিয়ে দিন পার করে দিতে চায় বৃদ্ধ হাড়গুলো। তবে বাস্তবতা তাদের পেছন থেকে অনবরত ধাওয়া করে যায়, রিকশার প্যাডেলেই তাদের পা টা দিন-রাত লেগে থাকে।
রোজা সবার জন্যই আসে সে মানুষগুলোও রোজা রাখে, বাসায় শুইয়ে বসে কাটিয়ে দিয়েও আমাদের রোজা ধরে, কিন্তু ৭০/৭৫ বছরের সে বৃদ্ধমানুষগুলো লাগাদার রিকশা চালানোর পরও চিন্তা করে আরেকটা যাত্রী তার রিকশায় কখন উঠবে।
সে মানুষগুলোর শরীরেও ক্লান্তি আসে, পৃথিবীর সব ঘুম তাদের চোখের পাতায়ও জড় হয়ে নেমে আসে তবে তারা এর কারণ জানতে চায় না, জয় হোক ক্লান্তির কিংবা জয় হোক অবসাদের বলে তারা চিল্লাতে পারে নাহ।
যখন প্রায় অবশ হয়ে যাওয়া শরীরটাকে জোর করে রিকশা টেনে নিয়ে যেতে হয় তখন রিকশার চলার গতিটা কমে যায়, ঠিক তখন আমরা নানান রকম গালি শুনিয়ে দি তাদের, নাহয় কটুক্তির সুরে বলে উঠি " পেটে কিছু নাই? কিছু খাস নাই? বউ এর সাথে ঝগড়া করে রিকশা নিয়ে বের হইছস নাকি? তোর মত বুড়ার রিকশায় উঠাটাই ভুল হইছে "।
কিছু আবদার তাদের মনেও জন্মায়, আবদারের সুরে কোনসময় ৫/১০ টাকা বেশি চায় বা ৫ টাকা বেশিই রেখে দেয় তখন কিছু মানুষ আছে কোনো কথা বলা ছাড়াই সরাসরি তাদের থাপ্পড় মেরে দেয়, আপনি ভদ্র সমাজের সুশীল মানুষ আপনার মতে তারা অভদ্র সমাজের অশ্লীল মানুষ তাই আপনার ৫ টাকার জন্য তাদের গায়ে হাত তোলাটা জায়েজ আছে, ঠিক না?
কোথায় জানি পড়েছিলাম শিক্ষিত লোকটা রিকশাওয়ালাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো কিরে যাবি? এবং অশিক্ষিত রিকশাচালকটা বলে উঠলো কই যাইবেন? তারা আপনার সম্পত্তির ভাগ চায় নাহ, কিংবা জোর করে আপনার বাসায় গিয়ে দুবেলা ভাত খেয়ে চায় না, শুধু একটু ভালো ব্যাবহার চায়, তাদের সাথে একটু ভালো ব্যাবহার করলে আপনার গায়ের চামড়া খসে পড়ে যাবে নাহ। আপনিও মানুষ, তারাও মানুষ, নিচুশ্রেণীর ট্যাগ গায়ে লাগিয়ে তাদের সমাজ থেকে আলাদা করে দেওয়ার কোনো মানে হয় নাহ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.