অনলাইন ডেস্ক।।
জয়পুরহাট জেলার উপর দিয়ে তিন দফায় বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে ঘরের টিন উড়ে যাওয়াসহ গাছ পালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ ভেঙ্গে ও দেয়াল চাপায় নিহত হয়েছে মাসহ দুই ছেলে ও এক বৃদ্ধা ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদের আগের রাতে এক দফা এবং পরের দিন রাতে পর পর দুই দফা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে জয়পুরহাটে। এতে জয়পুরহাট সদর, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলায় বাড়ি-ঘর, মুরগির শেড, বোরো ধান, শাকসবজি, কলাগাছ সহ বিভিন্ন গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে বন্ধ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) এবিএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঈদের আগের রাত থেকে শুরু করে তিন দফায় আঘাত হানে কাল বৈশাখী ঝড়। এতে ক্ষেতলাল উপজেলার ২০ টি গ্রামের সহস্রাধিক বাড়ি-ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। ডাল ভেঙে উপড়ে পড়ে ব্যাপক গাছ পালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সঙ্গে খলিশাগাড়ী গ্রামের জয়নালের স্ত্রী শিল্পী বেগম (২৭) , দুই ছেলে নেওয়াজ হোসেন (৭) ও নিয়ামুল হেসেন (৪) ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আতাউর রহমান জানান,কালবৈশাখী ঝড়ে টিন উড়ে ও গাছ পড়ে আহত হওয়া ২৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন পারভেজ জানান, উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামে বাড়ির উপর গাছ পড়ে মরিয়ম বেওয়া নামে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।এ ছাড়াও কালাই উপজেলায় সহস্রাধিক বাড়িঘর , গাছপালা, জমির পাকা বোরো ধান ও শাকসবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন চন্দ্র রায় জানান,সদরের জামালপুর, ভাদসা ও দূর্গাদহ এলাকার প্রায় ৬/৭ শ গাছ পালা ও দুই শতাধিক বাড়িঘর তছনছ হয়েছে। চকদাদরা দাখিল মাদ্রাসার উপরে গাছ পড়ে পুরোটা ভেঙে গেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মণ্ডলসহ উপজেলার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে জেলায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কাজ চলছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, তাৎক্ষণিক ভাবে মৃতদের পরিবারের জন্য ২০ হাজার করে টাকাসহ বাড়ি তৈরির জন্য টিন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর জন্য ঘর তৈরিতে ১০০ বান্ডিল টিন ও পরিবার প্রতি ৩ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও খাদ্য সহায়তা হিসাবে ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.