মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে, শ্রমিক কল্যান তহবিলের চাঁদা উত্তোলন চেষ্টাকালে সাধারন শ্রমিকরা বাঁধাদেয়।এতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন নেয়।
মঙ্গলময় (০২ জুন) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার বাস থেকে শ্রমিক কল্যান তহবিলের নামে বাস শ্রমিক ইউনিয়ন চাঁদা তুলতে গেলে সাধারন শ্রমিকরা বাঁধা দেয়, এতে শ্রমিক ইউনিয়নের বহিরাগত সন্ত্রাশীদের সাথে সাধারন শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাঁধে,পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন নিতে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি শান্ত করে।পরে পুলিশ প্রহরায় সকল নৈশকোচ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
লালমনিরহাট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধক্ষ্য আনোয়ারুল ইসলাম দুলু এই প্রতিবেদক কে জানান,করোনা দুর্যোগে সরকার ঘোষিত লকডাউনে দীর্ঘ ৬৭দিন পর পরিবহন খুলেছে।এই দীর্ঘ সময়ে বাস মিনিবাস শ্রমিক কর্মহীন থাকায় তাদের ঘরে খাবার ছিলনা,দূর্যোগকালীন সময়ে অনির্বাচিত শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়নি, তাদের কোন খোঁজ খবর রাখে নি।অথচ দীর্ঘ ১১বছর যাবত এই অনির্বাচিত শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যান তহবিলের নামে কোটি কোটি টাকা চাঁদা উত্তোলন করেছে।সেই টাকায় শ্রমিক নেতাদের আলীশান বাড়ী,একাধিক ট্রাকের মালিক অবৈধ ব্যাংক ব্যালেন্স হয়েছে।অথচ সাধারন শ্রমিক নানা দুর্ভোগে থাকলেও বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের অবৈধ কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের নূন্যতম সহযোগীতা করেনি।আমরা সাধারন শ্রমিক তাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাঁচ দফা দাবী আদায়ের ডাক দিয়েছি,তার অন্যতম দফা হচ্ছে নতুন নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে সংগঠনের দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।অবৈধ কমিটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিক কল্যান তহবিলের নামে কোন চাঁদা উত্তোলন করতে পারবে না,শ্রমিক সেক্টরে বহিরাগত সন্ত্রাশীদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে,বিগত ১১বছর যাবত আদায় কৃত শ্রমিক কল্যান তহবিলের হিসাব সাধারন শ্রমিকদের দিতে হবে,শ্রমিক কল্যান তহবিল থেকে দুস্থ্য শ্রমিকদের এক কালীন সহযোগীতা করতে হবে।আমরা সাধারন শ্রমিকের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি,আজকে বহিরাগত সন্ত্রাশী ভাড়া করে শ্রমিক ইউনিয়নের অবৈধ নেতৃবৃন্দ জোর করে চাঁদা উত্তোলন করতে চাইলে আমরা সাধারন শ্রমিক তা প্রতিহত করি।
লালমনিরহাট জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সাথে মটর মালিক সমিতির কোন সম্পর্ক্য নেই।কোন শ্রমিক দাবী করতে পারে না মালিক সমিতির কমিটি থাকবে কি থাকবে না,এটা শ্রম আইনের পরিপন্থি।মটর মালিক সমিতির কোন সদস্য শুধু এই দাবী করার অধিকার রাখে।গাড়ী থেকে জিপি উত্তোলন করা হয় মালিক পক্ষের সিদ্ধান্তে, এটা মালিক সমিতির ফান্ডে জমা থাকে মালিকদের আপদ কালীন সময়ের জন্য।
বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, লালমনিরহাট বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কতিপয় নেতা সাধারন শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা তৈরী করছে।মালিক সমিতির নামে জিপি উত্তোলন বন্ধ করতে শ্রমিক ইউনিয়ন আন্দোলন করছে।দীর্ঘ করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কোন সহযোগীতা করেনি মালিক সমিতি।এখন শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.