আর এম রিফাত,ইবি প্রতিনিধি,০৯ জুন,২০২০।।
করোনায় আতঙ্কিত পুরো বিশ্ব। যার ভয়াল থাবায় প্রাণ হারাচ্ছে সমগ্র বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ। আমাদের দেশেও করোনা প্রকোপ আকার ধারন করেছে। ভাইরাসের সংক্রমণে বেশি সমস্যায় পড়েছে কর্মহীন হয়ে পড়া গৃহবন্দি অসহায় মানুষেরা৷
তৈমনি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পিঠা বিক্রেতা সুফিয়া থাতুন (মোটাখালা) অর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসা খরচ সংগ্রহ করতে পারছেনা। নিজের কোন আয় না থাকায় ব্যাক্তিগত ও চিকিৎসা খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তার আয়ের উৎস ছিল বিশ্ববিদ্যালয় খালেদা জিয়া হলের সামনে ক্ষুদ্র মুদির দোকান। সেখানে তিনি চা, বিস্কুট, পিঠা, বেগুনি, আলুর চপ বিক্রি করে নিজে চলতেন ও ঔষুধের খরচ জোগাতেন। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে তারও আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। এখন সে নিজের খরচ ও ঔষুধের টাকা সংগ্রহ করতে পারছেনা।
তথ্য সুত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী হানিফ হোসাইন গতকাল সোমবার (৮ জুন) ইবিয়ান গ্রুপে মোটা খালাকে নিয়ে পোষ্ট করেন।
সম্পূর্ণ পোষ্টটি হলো, আপনারা সবাই হয়তো চিনেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের সামনে একটা খালা পিঠা বিক্রি করতো। তার কোন সন্তান নেই। করোনায় কাজ না থাকায় খুব কঠিন ভাবে জীবন জাপন করছে। ওষুধ ফুরিয়ে গেছে। আজকে ফোন দিয়ে বলছে বাবা আমি কি মরে যাবো? কেউ খোঁজ খবর নেয় না ক্যাম্পাস খোলা থাকলে তাও পিঠা বিক্রি করতাম খাবার খরচ টা হত এখন কিছু হয়না।
মোটা খালার সাথে কথা বলে জানা যায়, আমার কেউ নেই। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাই আমার সন্তান। তাদের মাঝে পিঠা,চা, আলুর চপ বিক্রি করে চলি। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে আমার আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। আমি ডায়াবেটিস, গ্যাষ্টিক সমস্যা সহ নানারোগে জর্জরিত। প্রতি মাসের আমার ১৫০০ টাকার ঔষুধ লাগে। নিজের ব্যাক্তিগত কোন আয় না থাকা ও আর্থিক কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় আমার চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যদি আমায় কিছু অর্থ দান করে তাহলে আমি নিয়মিত ওষুধ খেতে পারতাম।
উল্লেখ্য, তিনি ক্যাম্পাসের ভিতরে ২২ বছর ধরে অবস্থান করছেন। তার দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামী মারা গেলে দ্বিতীয় আর ও একটি বিয়ে হয় তার। ২য় স্বামী তার কোন প্রকার দেখা শোনা করে না। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসের সকলের পরিচিত মোটা খালাকে সহযোগিতা করতে। বিকাশ পার্সোনালঃ ০১৭৭৩৮৭৯৭২৩, খালার নাম্বারঃ০১৭৬২৫৮২২৯৩।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.