বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাট সদরের বৈটপুর-ভদ্রপাড়া এলাকায় ঘুর্নিঝড় আম্পানের তান্ডবে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাধ দিয়ে পানি ডুকে প্লাবিত হয়েছে একগ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার।
গত ২০ মে উপকূল জেলা গুলোতে আছড়ে পড়া ঘুর্নিঝড় আম্পানের পানি নেমে যাবার পর কিছুটা স্বাভাবিকতার ছোয়া লেগেছিলো জনজীবনে। কিন্তু পুর্নিমার প্রভাবে ভৈরব দড়াটানা নদীর পানি বেড়ে যায় আবারও ভেঙ্গে যায় বাধ। তলিয়ে যায় লোকালয়।
এখন জোয়ারের সময় ঘরের মেয়ে ছুইছুই পানি আবার ভাটির সময় পানি কমে যায়। অথ্যাৎ জোয়ার ভাটা হিসেব করে বসবাস করতে হচ্ছে এই এলাকার বসিন্দাদের।ভাটার সময়ও স্থানীয় রাস্তাগুলোতে জমে থাকে হাটু সমান পানি।
এদিকে পানিবন্দি জীবন যাপন করা মানুষেরা বলেন, আম্পানের প্রভাবে বেড়িবাধ ভেঙ্গে গেছিলো , উপজেলার চেয়্যারমান সাহেব এই এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত বাধ নির্মান করার আদেশ দেন। বাধ নির্মান করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় নাজুক বাধ আবারও ভেঙ্গে যায়। ফলে আমরা আবারও পানি বন্দি হয়ে পড়ি। আর কতদিন? কতদিন এভাবে থাকবো? ঝড়ের পরে একটা দিন ও মনে হয় ঠিকমতো পানি বিহিন কাটাতে পারি নাই।
ভদ্রপাড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মৎসচাষী বলেন, এই এলাকার কমপক্ষে ১০ টি মাছ ভর্তি ঘের পানিতে ডুবে গেছে। আমাদের প্রত্যেকের লাখ খানেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। একেতে দিনের পর দিন পানি বন্দি আছি তার ওপর আবার ঘেরেও দুর্দশা আমরা সর্বস্বান্ত প্রায়। এভাবে চলতে থাকলে কতদিন বাচা যাবে? সব তো শেষ।
এদিকে অত্র এলাকার ইউপি সদস্য মো.তৈয়ব জানায়, বাধ একবার নির্মান করা হয়েছিলো।ভেঙ্গে গিয়ে আবার পানি ডুকে গেছে। যার ফলে সবার এখন জোয়ার ভাটা হিসেব করে চলতে হবে। অনেকের রান্না ঘর চুলা নষ্ট হয়ে গেছে।রান্নার জন্যও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। এভাবে কিছুদিন চললে এই এলাকা ব্যাবহার অনুপোযোগী হয়ে যাবে।এ অবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাষন করে পুনরায় শক্তভাবে বাধ নির্মান করা জরুরি।এদিকে সুপারি বাগান -নারকেল বাগানে ও পানিভর্তি আশঙ্কা হচ্ছে নারকেল-সুপারি না হওয়ার, যদি এরকম কিছু হয় চিংড়ির পাশাপাশি তাহলে নারকেল সুপারিতেও ধস নামতে পারে।
এদিকে উপজেলা কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান জানায়, ভেঙ্গে যাওয়া স্থানগুলে দ্রুত ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ইনশাআল্লাহ টেকসই বাধ নির্মান কাজ শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য যে,ঘুর্নিঝড় আম্পানের প্রভাবে এই এলাকার বাধটির একাধিক জায়গা ভেঙ্গে যায়।পরে উপজেলার চেয়্যারমান এর সহায়তায় বাধটি পুনঃনির্মান করা হয়। কিন্তু আবারও ভেঙ্গে গিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।পানির চাপে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেক স্থান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.