মুজাহিদুল ইসলাম,লক্ষ্মীপুর।।
লক্ষ্মীপুর জেলার, সদর, ৪ নং চর রুহিতা ইউপি সদস্য মোঃ গোফরান ইউনিয়ন পরিষদের অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত। রাজনীতি করে ও রাজনীতির মাঠ থেকেও জনগণের জন্য সরে দাঁড়ান তিনি। তবে তিনি এখনও মনেপানে রাজনীতিকে ভালোবাসেন। তিনি দেখলেন রাজনীতির চেয়ে ফ্যাট নীতি অনেক উত্তম। তাই তিনি উত্তম টাকেই বেছে নিলেন।
চররুহিতা ইউনিয়নে হাজারো লোকের প্রিয় মানুষ মোঃ গোফরান মেম্বার। ছোট বড় সকলেই এক নামে মোঃ গোফরান মেম্বার কে চেনেন। তিনি সকলের সাথে ভাব ধরতে জানেন। ছোটদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে, বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে, এবং মা বোনদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে সবকিছুই তার জানা আছে। মোঃ গোফরান মেম্বার থেকে জানতে চাইলাম তিনি কেন ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন না। সরকারের দেওয়া ত্রাণ বিতরনে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কারো প্রতি অভিযোগ না করে এক কথায় বলে দিলেন যে জনগণের জন্য ইউপি সদস্য হয়েছি, সে জনগণের জন্য কিছু চাইলে পাইনা। যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে ইচ্ছে করে না।
তিনি বলেছেন আমার খুব ইচ্ছে ছিল একজন ইউপি সদস্য হওয়া। আমার ইচ্ছেটা হয়তোবা পূরণ হয়েছেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় জনগণের ইচ্ছা আমি পূরণ করতে পারলাম না। আমি আমার ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের সকল মা বোনদের কাছে ঋণী। তবে হ্যাঁ, একটা পেরেছি যে যখন আমাকে ডেকেছে আমি তখনই তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছি। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব আমার ওয়ার্ডের মা-বোনদের সাহায্য, সহযোগিতা করেছি।
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যদি কিছু পেতাম তাহলে হয়তোবা আমার ওয়ার্ডের গরিব দুঃখী ভাই-বোনদের আরেকটু বেশি করে দিতে পারতাম। পাকে পাকে সাধারণ জনগণের দিকে তাকালে চোখের অশ্রু ভেসে যায়। আমি কি পেরেছি আমার ওয়ার্ডের জনগণের দায়িত্ব পালন করতে! আল্লাহ তাআলার কাছে আমি কি জবাব দিব।
এই মহামারী করোনাভাইরাস সময়ও মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলাম না। সরকারের দেওয়া ত্রাণ নিজেও পেলাম না, জনগণ কেও এনে দিতে পারলাম না। আমার এলাকার রাস্তাঘাট গুলো পুরনো যুগের কায়দায় পড়ে আছে, নেই কোন সংস্কার, নেই কোন পাকা রাস্তার মুখ।
প্রতিনিয়ত এই নিজের কাছে নিজের প্রশ্ন, কি পেয়েছি আমি ইউপি সদস্য হয়ে! কি দিয়েছি আমি আমার ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণকে! তবুও পথ চলি, জানিনা কোথায় এর শেষ ঠিকানা হবে। তারপরেও আমার ৯ নং ওয়ার্ড বাসি আমাকে খুব ভালোবাসে। যেকোনো লোকের কোন সমস্যা হলে সাধ্যমত চেষ্টা করি সমাধা করার। যদি কোনো সমাধানে না আসতে পারি তাহলে চেষ্টা করি ভালো কোনো পরামর্শ দেওয়ার।
আমি এক দুর্ভাগা ইউপি সদস্য। হয়তোবা ইউপি সদস্য না হলে আজ আমাকে এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো না। তাই নামাজ পড়ে সৃষ্টিকর্তা কে বলি ও সৃষ্টি কর্তা, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি, তোমার হুকুম কে বিশ্বাস করি। আমি কাহারোর পিছনে তেল মারতে পারি না, সেজন্য আজ আমি অবহেলিত। আমি কাহারোর পিছনে তেল মারতে চাই না, আমি শুধু তোমার হুকুম পালন করতে চাই। আমি সঠিক পথে থাকতে চাই। সঠিক কথার ভাত নাই, মিথ্যা কথা বলেন, কাহারোর পিছু পিছু হাটেন, কারোর পক্ষে সত্য মিথ্যা বানিয়ে বলেন এটা অন্তত আমার জন্য সম্ভব নয়। কারণ আমি গোফরান মেম্বার ছোটবেলা থেকেই এরকম। আমি কারোর পিছনে তেল মারতে পারি না। তেলবাজদের পছন্দ করিনা। পরিশেষে বলতে চাই, সৃষ্টিকর্তা যদি আবার কখনোই সুযোগ দেয়, তাহলে আমার ওয়ার্ডের সকল মানুষের ভাগ্য যদি আমার খেজমত থাকে তাহলে করতে পারব। আর যারা মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি করে, রিযিক নিয়ে ছিনিমিনি করে, আল্লাহপাক যেন তাদের বিচার করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.