মোঃ সাহাব উদ্দিন,কক্সবাজার প্রতিনিধি।।
চকরিয়া এই অবস্থায় গলার কাঁটা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে বাস্তবায়িত দোহাজারি-কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চকরিয়া অংশের রেললাইনের উঁচু রাস্তাটি। কারণ এই রাস্তার পূর্বাংশজুড়ে আটকা পড়েছে কয়েকফুট উচ্চতায় বৃষ্টির পানি। পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির রোপিত ফসল। এক্ষেত্রে রেল লাইনের উুঁচ রাস্তাকেই প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার(১৬ জুন) রাত ১২টার পর থেকে লাগাতার এই বর্ষণে পৌরসভা ছাড়াও উপজেলার ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলে টইটম্বুর করছে পানি। এদিকে আজ বুধবার বিকালে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় এবং পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করে নামতে শুরু করেছে। এতে করোনাকালে পুরো চকরিয়া উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মাঝে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, সাহারবিল, চিরিঙ্গা, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ইউনিয়নের বেশি সমস্যা করছে রেল লাইনের ১০ ফুট উঁচু রাস্তাটি। এই রাস্তার কারণেই ইউনিয়নের পর ইউনিয়নে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসলও।
কাকারার মাতামুহুরী তীরের বাসিন্দা চকরিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক এম আর মাহমুদ জানান, চারিদিকে বিভিন্ন ধরণের উঁচু রাস্তা ও বাঁধ থাকায় অতি বৃষ্টির পানি ভাটির দিকে নামতে পারছে না। এতে অতি দ্রুতই ডুবে যাচ্ছে লোকালয়। এই অবস্থায় বিপদসীমা অতিক্রম করে উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানিও নামতে শুরু করেছে মাতামুহুরী নদীতে। এতে এবার ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন চকরিয়ার মানুষ।
মাতামুহুরী পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা বলেন, অতিবর্ষণের কারণে ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। কারণ দোহাজারি টু কক্সবাজার এবং ফাঁসিয়াখালী টু মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুত পর্যন্ত রেললাইন সড়কের বিশাল অংশ আমার ইউনিয়নে পড়েছে। এতে বৃষ্টির পানি নামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করছে রেললাইনের উঁচু রাস্তা। তাই রেল লাইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আগে এলাকাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে পানি যাতে ভাটির দিকে নামতে পারে সেজন্য ছোট ছোট কালভার্ট নির্মাণ করা খুবই জরুরী। এসব বিষয় জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।
জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ভারি বর্ষণ এবং মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য উপকূলীয় এলাকার সকল স্লুইস গেট দুই ঘণ্টার মধ্যে খুলে দিতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রেললাইনের উঁচু রাস্তার কারণে যেসব এলাকায় পানি নামতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে বসে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি চলতি বর্ষা মওসুমেও যাতে কোন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, এবারের বর্ষা মওসুমের শুরুতে টানা কয়েক ঘণ্টার ভারি বর্ষণে চারিদিকে পানি জমে যাওয়ার ক্ষেত্রে রেললাইনের নির্মিতব্য মাটির রাস্তাটিকে দায়ী করছেন মানুষ। এখনো যেহেতু রেললাইন নির্মাণের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, সেহেতু কোথায় কী সমস্যা তা চিহ্নিত করার সুযোগ হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.