নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মেঘনা নদী হয়ে এ দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ প্রায় ২০ টি জেলার সহজ যোগাযোগ মাধ্যম এ সড়কটি। কিন্তু একটু বৃষ্টিতেই বড় বড় গর্তগুলো পানি ভর্তি হয়ে কাঁদায় পরিণত হয়। এতে যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীর হাট সড়ক হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর ইউনিয়নের বিইউ চৌধুরী ফিশারি এলাকায় সড়কের কাঁদা ভর্তি গর্তে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাস, বালুবাহী ট্রাক, লেগুনা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা আটকে যায়। এসময় বাসের সামনের দিক সড়কে কার্পেটিংয়ের সঙ্গে লেগে থাকতে দেখা যায়। পরে শ্রমিকরা চাকার নিচ থেকে কাঁদা সরিয়ে গাড়ি নিয়ে স্থান ত্যাগ করতে হয়।
এদিকে মজুচৌধুরীরহাট ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট হওয়ায় প্রায় ১১ কিলোমিটারের সড়কটি জেলার সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততম সড়ক। আবার মজুচৌধুরীহাট এলাকার আশপাশে অন্তত ১২ টি বালু মহাল রয়েছে। যেখান থেকে লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের জেলায় বালু বিক্রি হয়। মেঘনার নদী হয়ে দেশের ২০ জেলার যোগাযোগ থাকায় যাত্রীবাহীবাস প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করে। আর প্রতিদিনই এমন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গাড়ি চালক ও যাত্রীদের। প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে যানবাহন।
জেলার ব্যস্ততম এই সড়কটিতে রাতের বেলায় নেই কোন লাইটিংয়ের ব্যবস্থা। সন্ধ্যার পরই সড়কটি পুরো অন্ধকার হয়ে পড়ে। তখন যানবাহনগুলো মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর- বরিশাল- ভোলা সড়কটি প্রশস্তসহ কার্পেটিং উল্টিয়ে নতুন করে করার জন্য প্রায় এক’শ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। প্রায় ৪ মাস আগে রি-টেন্ডারও হয়। লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল থেকে মজুচৌধুরীরহাট লঞ্চঘাট পর্যন্ত সড়কটি প্রায় ১১ কিলোমিটার। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে সড়ক উন্নয়ন কাজটির বরাদ্দ আসছে না। এই জটিলতা শেষ হতে আরও দুই মাস সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে সড়কটি সংস্কারের জন্য কয়েকবার অনুমতি চাইলেও কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি সড়ক সংস্কার করার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। তবে জেলা অফিসের ফান্ডে যে টাকা রয়েছে তা দিয়ে সড়কের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মেঘনা নদীর সঙ্গে ২০ টি জেলার সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় আধুনিক নৌ-বন্দরের ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌ-বন্দরসহ ১৭ টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ১০ টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নৌ-বন্দরের কাজ শুরু হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.