হাসান সজিব, জবি প্রতিনিধি।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের ভয়ানক আক্রমণে জনজীবনের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থারও বিপর্যস্ত অবস্থা। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে ঘর বন্দি হয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অনেকে শহর ছেড়ে নিজ গ্রামে গিয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছে।
এই অবসর সময় কিভাবে কাটাচ্ছে তা নিয়ে কথা হয় শিক্ষার্থীদের সাথে।
জোবায়দা ফয়সাল ইভা-
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি অবসর সময় কাটাচ্ছি বই পড়ে,রান্না করে,আর সোশ্যাল মিডিয়া তে প্রচুর এক্টিভ থাকি। তবে একটা বিষয় খুব ভালো লাগছে যে, পরিবারের সবার সাথে আড্ডা দিয়ে এখন ভালো সময় পার করছি। বিশ্ববিদ্যালয় চলাকালীন পরিবারের সাথে খুব বেশিদিন থাকতে পারতাম না কিন্তু করোনায় ঘরবন্দী জীবনে পরিবারের সাথে অনেকসময় দিতে পারছি। আমি ক্যাম্পাস কে প্রচুর মিস করছি,বন্ধুদের সাথে আড্ডা,চলাফেরা,খেতে যাওয়া।।পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়ানো তাদের সাথে।আমি আমার শিক্ষকদেরও অনেক মিস করছি যাদের আমি অনেক জালিয়েছি। আমি চাই পৃথিবী আবার আগের মত সুস্থ হয়ে উঠুক। আমি খুব তাড়াতাড়ি ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই।
বাদশা নাছির উদ্দীন-
নোয়াখালী সরকারি কলেজে-
করোনার কারণে গত তিনমাস ধরে বাড়িতে আছি। আমার বাবা স্থানীয় চিকিৎসক, আমাদের গ্রামের আশেপাশের লোকদের দীর্ঘদিন যাবত প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।আর বাবার ফার্মেসি থাকার সুবাদে আমি ছোট থেকে প্রায় ওষুধের নাম জানতাম। পরে পড়া-লেখার পাশাপাশি আমিও ফার্মেসি কোর্স করে বাবার সাথে বাড়ি আসলে সময় দিয়ে থাকি। যার জন্য গত তিন মাস ধরে আমি অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি। অনেক ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে কাজ করছি। তারপরও মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিতে পারায় নিজেকে ধন্য মনে করি। হয়ত এখানে পরিবারের সাথে অনেক হাসি-খুশি থাকলেও বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘুরাঘুরি, শিক্ষকদের ক্লাস অনেক মিস করছি। আবার হয়ত কোন আনন্দমুখর দিনে দেখা হবে সুস্থ পৃথিবীতে।
রাশেদ রনি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, প্রকৃতি আজ নিস্তব্ধ। চারপাশে শুধুই মৃত্যুর মিছিল। বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সরকার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। তখন বুঝিনি করোনা ভাইরাস এতো মারাত্মক মহামারি। ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে আসলাম বাসায়। তাই পরিবারকে সময় দেয়ার একটা সুযোগ পেলাম। শুরুতে ভালই কাটছিল সময়। কিন্তু আস্তে আস্তে করোনাভাইরাস ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আজ দীর্ঘ তিন মাসের উপরে বাড়িতেই আছি। বাড়িতে অবসর সময়ে বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করি। এলাকার সামাজিক কাজে সময় দিই, পরিবারকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার চেষ্টা করি। মোট কথা, সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছি। তবে এখন আর ভালো লাগছে না, খুব মিস করছি ক্যাম্পাসের দিনগুলো। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, সুযোগ পেলে একটা ট্যুর দেয়া, ক্লাস শেষে টিএসসির সজিব মামার দোকানের চা অনেক মিস করছি।
নুসরাত বিনতে আলম-
ইউরুপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, প্রাণঘাতী করোনা থেকে বাঁচতে ক্যাম্পাস বন্ধ দেয়। কিন্তু কখনো ভাবিনি এতোদিন বাসায় থাকতে হবে।
প্রথম দিকে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো সময় পার করছি, পরিবারকে সময় দিচ্ছি। পড়ালেখার সুবাদে পরিবার থেকে আলাদা থাকায় রান্নাবান্না তেমন শিখতে পারিনি। এখন করোনাকালীন সময়ে পরিবারের সাথে থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখন দীর্ঘসময় নিয়ে গল্পের বই পড়ি। এবং পাশাপাশি ধর্মীয় কাজ গুলো করি। তবে বাড়িতে এতো ব্যস্ত থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোকে অনেক মিস করছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন পৃথিবীকে সুস্থ করে দেন। আবার ফিরে আসে আনন্দমুখর দিনগুলো।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.