পৃথিবীটা আবার সুস্থ হোক

এলাচি আক্তার,হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।।

এইতো সেদিন দু পা বাড়িয়ে ছুটে চলেছি বিস্তৃত দিগন্ত মাঠ জুড়ে অথচ আজ পরিবেশটা কেমন নিস্তব্ধ থমথমে। এতো মায়াময় ধরণী আজ যেনো কেউই কারো নয়। আজ আর কেউ দৌড়ে এসে পরম স্নেহে বুকে জড়াতে চায়না, কেউ এসে হাতে হাত রেখে সাহস জোগাতে নারাজ৷ আজ বরং অসুস্থ মা নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে দেখে ও সন্তানেরা কাছে ভিড়ছেনা।আর সেখানে বন্ধু বান্ধব আত্নীয় স্বজন তো নিরাকার শোভা মুর্তি।

অজানা এক ভয় বিলীন করেছে সব আশা ভালোবাসার ঝাঁজ।কতো সাধনায় লালিত ভালোবাসার পোষা পাখিটাও আজ হাত বাড়ালে দুরে চলে যাচ্ছে বিনা নোটিশে। তবে কি আজ চিরাচরিত জীবন ধারার গন্ডি পেরিয়ে চলেছি আমরা?

চির যৌবনা আষাঢ় প্রেম নদীতে জোয়ার তুলেনি এমনটা কখনো দেখিনি আমি। আজ যে প্রকৃতি আষাঢ়ের শুভ্রতায় উতলা সেটা কারো দৃষ্টিগোচর ও হয়নি। কতো কদম নিরবে কেঁদে চলেছে রাধার পূজোর অর্ঘ্য হতে পারেনি বলে। কে রাখছে খোঁজ কে- ই বা দেখেছে চেয়ে? সবার অনুভূতি আজ নিজ প্রাণটা টিকিয়ে রাখার ঘোরে বন্দি। তবে আমরা কি বেলালুম ভুলে গেলাম প্রাণ পাখির স্থায়িত্ব চিরকাল নহে? একদিন তো সে উড়ে যাবেই।

তবে কেনো মিছে তাহারে বাঁধিতে অনিয়মের ফাঁদে এতো আহাজারি! স্বার্থের তরে হারিয়ে ফেলছি মানবিকতা বিবেচনা স্বকীয়তা!! আসলেই কি পৃথিবীটা অসুস্থ? নাকি আমরা নিজেরাই তাকে অসুস্থ করে চলেছি দিনে দিনে।

প্রকৃতি তার সুস্থ রুপ ফিরে পেয়েছে অনেকটাই আমাদের অসুস্থতার আদলে। এরপরেও কি আমরা মানুষ হবোনা? প্রকৃতি আজ বুঝিয়ে দিচ্ছে আমরা কতোটা অসহায় কতোটা নির্দয় কতোটা স্বার্থপর!! প্রকৃতি কিন্তু আমাদের এভাবে দেখতে চায়নি। তারা কামনা করেছিলো আমরা তার স্নেহ মায়া মমতা গ্রহণ করে প্রশান্ত হবো তার বিনিময়ে তাঁকে শোভিত হওয়ার সুযোগ করে দিবো, তার সন্তান গুলো বেড়ে উঠার উপযুক্ত পথ সুগম করে দিবো। কিন্তু আমরা এমন দেওয়াই দিয়েছি যে সে ও আজ ব্যাথার শাড়ীর আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাঁদে অনবরত।

পৃথিবী টাকে সুস্থ ও নির্মল করতে আমাদের আরেকবার মানুষ হিসেবে জন্ম নিতে হবে। আমাদের আরেকবার প্রকৃতির বিশালতায় মিশে যেতে হবে। প্রতিটা ভোর হয় আমার আবার সব ভালোবাসার মানুষ একসাথে নির্বিঘ্নে পথ চলতে চাওয়ার বাসনায়, লোকালয়ে নির্ভয়ে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে চাওয়ার কামনায়। প্রতিটা সূর্য উদিত হয় এই প্রার্থনায় পৃথিবীটা আবার সুস্থ হোক। ধরণীটা আবার স্বরুপ ফিরে পাক আমাদের সহমর্মিতায় মমতায় ভালোবাসায়।

লেখক:

এলাচি আক্তার

প্রভাষক

গনিত বিভাগ

হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ