শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা।।
আমাদের মুখে অনেক ধরনের আলসার বা ঘা দেখা যায়, তার কারণ আমরা কখনো জানি বা কখনো জানি না। কারণ জানা যায় না এমনি এক মুখের ঘা- এপথাস আলসার। মুখের যে কোন অংশে হতে পারে। যেমন- মুখের ভেতরে, জিহবায় ও ঠোঁটে। ঘা অগভীর, ব্যথাযুক্ত থাকে। সাদা আবরণে ঢাকা ও মার্জিন লাল থাকে। এটা বার বার হতে পারে।
জনসংখ্যার ২০-৩০% এই এপথাস আলসারে ভোগে। মেয়েদের বেশি হয় বিশেষ করে মাসিকের সময়।
এর কারণ অজানা। কোন ইনফেকশনের জন্যে হয় না। তাই আপনি একে আগেই ধরতে পারবেন না। এরা সাধারণত আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মানুষের কোন কারণ ছাড়াই হয়।
এর সঠিক কোন কারণ নেই কিন্তু কিছু ফ্যাক্টর বা রোগ এর জন্যে দায়ী। যেমনঃ
১. আঘাতঃ কৃত্তিম দঁাতের পাটি ঠিক ভাবে ফিট না হলে , অসমান টুথব্রাশের আঘাতে হতে পারে।
২. হরমোনের লেভেলের পরিবর্তনঃ কারো কারো পিরিয়ড হওয়ার আগে হয়। কারো কারো মেনপজের পরে হতে পারে।
৩. কিছু কিছু মানুষের সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয়ার পর হতে পারে।
৪. আয়রন, ভিটামিন বি-১২ ও ফলিক এসিড এর অভাবেও হতে পারে।
৫. কখনো কখনো কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবেও হতে পারে। যেমন- অরাল নিকোটিন থেরাপি, নিকোরানডিল, এন্টি ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ ইত্যাদি। এলারজির কারণেও হতে পারে।
৬. মানসিক চাপ, উদ্বিগ্নতার জন্যে হতে পারে। বংশগত কারণেও হতে পারে।
৭. ক্রন’স ডিজিজ, সিলিয়াক ডিজিজ, এইচ আই ভি ইনফেকশনে আক্রান্ত মানুষের মুখের ঘা হতে পারে। কিন্তু এটি এপথাস টাইপ নাও হতে পারে।
এপথাসের পাশাপাশি অন্য সমস্যা থাকলে ডাক্তার কে বলুন। যেমন – চর্ম ও যৌন রোগ, বাতের ব্যথা, কোন ইনফেকশন। যদি মুখের অন্য কোন ঘা বলে সন্দেহ হয় তবে ব্লাড টেস্ট বা অন্যান্য ইনভেস্টিগেশন করান।
যেহেতু নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তাই রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়।
যেমন- ১) স্থানীয়ভাবে স্টেরয়েড পেস্ট, কোন কোন ক্ষেত্রে মুখেও স্টেরয়েড খাওয়া লাগতে পারে। ২) কোলিন-সেলিসাইলট জেল। ৩) টেট্রাসাইক্লিন মাউথ ওয়াস-২৫০মিগ্রাম ৫ মিলি পানিতে ৪ বেলা। ৪) মাল্টি ভিটামিন-মাল্টি মিনারেল। ৫) ব্যথার ওষুধ। এপথাস আলসার ৭ থেকে ১৪ দিনের ভেতর ভালো হয়ে যায়, কোন ক্ষত চিহ্ন থাকে না।
এ ব্যাপারে আপনার চিকিৎসক আরো সুপরামর্শ দিতে পারবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.