প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ৫:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৯, ২০২০, ৫:৫৬ এ.এম
পরিবর্তন আসছে , আরো আসবে, ধন্যবাদ দিলেন এস আই মেহেদী হাসান

সাজ্জাদ চৌধুরী।।
কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের HDU এর ০৯ নং বেড থেকে বলছি।
আমি এস আই /মেহেদী হাসান। বর্তমান কর্মস্থল: সাইবার পুলিশ সেন্টার. সি আই ডি. ঢাকা। গত ২৮/০৪/২০২০ ইং তারিখ আমি কোভিড -পজেটিভ হয়ে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হই। ১২/০৫/২০২০ এবং ১৮/০৫/২০২০ দুই বার আরট পিসি আর পরীক্ষায় ই আমার নেগেটিভ আসে। ছাড়পত্র গ্রহণ করে ১৪ দিন হোম আইসোলোশনে থেকে আবার কর্মস্থলে যোগদান করি এবং ১৪/০৬/২০২০ ইং তারিখ আমি পুলিশ হাসপাতালে আমার প্লাজমা ডোনেট করি।
কিন্তু গত ২০/০৬/২০২০ তারিখ আমার আবার জর আসে যার মাত্রা ১০২'ফা।১০৩'ফা। অনেক গুলো ব্লাড টেস্ট করাই .বুকের এক্সরে করাই তাতে ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পরে। আবার করোনা টেস্ট করাই তার ফলাফল নেগেটিভ আসে। তাই কোন হাসপাতালে ভর্তি ও হতে পারছিলাম না . এই দিকে আমার শাসকস্ট শুরু হয়ে যায়। অবশেষে পপুলারে এক পরিচিত জনের মাধ্যমে বুকের সিটি স্ক্যান করে সেই রিপোর্ট নিয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে আসি। তারা আমার অক্সিজেন স্যাচুরেশন মেপে দেখে মাত্র ৯২ এবং এটা ধীরে ধীরে কমতেছে। নেগেটিভ হওয়া সত্তেও সাথে সাথে আমাকে ভর্তি করে নেয় আইশোলেশন সেন্টারে সেখানে দুই দিন অক্সিজেন এবং ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরও উন্নতি না হলে আমাকে HDU তে রেফার করে।
এরপরে ই শুরু হয় নতুন জীবন .. এখানে আসার সাথে সাথে ই দুই তিনজিন ডা: এসে আমার হিস্ট্রি লিখলেন। নার্স ডায়াবেটিস. প্রেসার. স্যাচুরেশন মাপলেন। অক্সিজেন লাগিয়ে দিলেন . শুরু হল ইঞ্জেকশন এর পালা একবারে নিয়ম মাফিক যথা সময়ে ওষুধ দেওয়া। সব কিছু পরিমাপ করা। পানি থেকে শুরু করে যা যা লাগে একটু পরপর এসে খবর নেওয়া। যতই দিন যাচ্ছিল আর আমি অবাক হচ্ছিলাম এই মানুষ গুলোর কত ধৈর্য্য? কিছুতেই বিরক্ত হচ্ছেন না। যখনই ডাকছি পাচ্ছি। শুনেছি করোনা রুগির কাছে কেউ যায় না অথচ এই হাসপাতালের প্রেত্যেক টা লোক একিবারে কাছে যেয়ে গায়ে হাত বুলিয়ে শান্তনা দিচ্ছে। সাহস দিচ্ছে। এদের সেবা এতটাই ছিল যে আমি কখনোই বুঝি নি আমি এখানে একা। আল্লাহর রহমতে আমি আজকে ছাড়া পেয়ে বাসায় আসছি কিন্তু বার বার মনে পরছে HDU এর সেই সকল ডাক্তার. নার্স. বয়. আয়াদের কথা . তাদের জন্য দোয়া আর ভালবাসা ছাড়া তো কিছুই দিতে পারবো না।
দোয়া করি ভাল থাকুক এই মানুষ গূলো।
ধন্যবাদ মাননীয় পরিচালক (ডি আইজি) স্যার কে হাসপাতালের সেবার মান এতটা উন্নত করার জন্য . আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুক আমিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.