মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়ন চর ফলিমারি গ্রামটি ধরলা নদীর ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে।চরে বসবাসকারী চারশতটি পরিবার ফসলি জমি,বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে সেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে ধরলা নদীর প্রবল ভাঙন কবলিত ১৮০০মিটার তীর রক্ষার্থে,বস্তায় বালু ভরে চরবাসী নিজ উদ্দোগে ফেললেন।
বুধবার( ১৯শে আগষ্ট) সকাল দশটায় লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন ধরলা নদীর ভাঙন কবলিত চর ফলিমারিতে স্বেচ্ছায় বাঁধ নির্মান পরিদর্শনে আসেন,এ সময় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আশ্বাস দেন।স্বেচ্ছায় কর্মরত গ্রাম বাসীর সাহায্যার্থে কামরুজ্জামান সুজন ব্যাক্তিগত ভাবে অর্থ সহায়তা তুলে দেন।
ভারত সীমান্ত ঘেঁষা মোগলহাট ইউনিয়নের শূন্য রেখায় খরশ্রোতা ধরলা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, প্রতি বছর উজান থেকে বয়ে আনা হাজার হাজার টনপলির কারনে বালির আঁধারে ঢেকে গেছে নদীর গতিপথ।ফলে ভরা বর্ষায় নদীর দুকূল ছাপিয়ে বন্যায় প্লাবিত হয় চরাঞ্চল,এদিকে শুকনো মৌসুম শুরু হলেই নদীর দুকূল ভাঙতে শুরু করে।ধরলা নদীর অভিশাপ থেকে রেহাই মিলছে না নদীর দুই পারের বাসিন্দাদের।
সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে কুড়ুল পর্যন্ত ফসলি জমি, বসতি রক্ষার্থে নদীর পশ্চিম পার্শ্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক ও জিআই বস্তা ভরাট করে ফেলায় ভাঙন রোধ হয়েছে কিছুটা,কিন্তূ পশ্চিম তীরে পানি বাঁধা গ্রস্থ হয়ে ঢেউ এসে আঁছড়ে পড়ছে পূর্ব দিকের চরফলিমারিতে,ফলে এখানে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন।চরফলিমারি ও উসমান তাঁতির চরে দেড় হাজার লোকের বসবাস,রয়েছে তিনটি মসজিদ একটি মাদ্রাসা ও একটি স্কুল।বাংলাদেশ স্কাউট ঢাকা থেকে পরিচালিত একমাত্র প্রাইমারি স্কুলটি চরবাসীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্কুল ও চরফলিমারি রক্ষার্থে এক হাজার প্লাস্টিকের বস্তা স্কাউট কতৃপক্ষ ঢাকা থেকে পাঠান।গ্রামবাসী নিজেরাই বাঁশ সংগ্রহ করে দেড় হাজার বাঁশ ভাঙন কবলিত নদীর তীরে স্থাপন করে সেখানে বালু ভর্তি বস্তা নিজেরাই ফেলছেন।তাদের এই উদ্দোগ ভাঙনের তীব্রতার কাছে অতি নগণ্য,সদর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান কামরুজ্জামান সুজন তাদের দুঃখ লাঘবে বুধবার বিকেলে লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রৌকশলী কে নিয়ে বিকেলে পূনরায় ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় শত শত চরবাসী মহিলা পুরুষ (পাউবি)র প্রৌকশলী ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজনের কাজে দাবী জানান তারা ত্রান সহায়তা চান না,এই চর কে রক্ষার্থে বাঁধ নির্মানের দাবী জানান,প্রয়োজনে জরুরী ভিত্তিতে এক হাজার জিআই ব্যাগ সরবরাহ করলে চরবাসী নিজেরাই বস্তা ভরাট করে ভাঙন কবলিত এলাকায় ফেলবেন বলে দাবী জানান।অতি দ্রুত বালির বস্তা ফেলা না গেলে চরফলিমারি অঞ্চলের দেড় হাজার মানুষ,ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধরলা নদীর গর্ভে বিলীন হবে অচিরেই ।বিষয়টি আমলে নেবার জানাচ্ছে তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.