শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
২০০৯ সালে প্রলয়ঙ্কারী সাইক্লোন "আইলা" এর সময় সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
আইলা পরবর্তী সময়ে উপকূলের গাবুরা,পদ্মপুকুর,বুড়িগোয়ালিনী সহ কয়েকটি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামত ও ভবিষ্যতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা থেকে তৎকালীন সাংসদ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানদের অদূরদর্শিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রভাবশালী চিংড়ি ঘের মালিকদের সুবিধার্থে তড়িঘড়ি করে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধের ডিজাইন করে রিং বাঁধ দেওয়া হয়।যা ছিলো সম্পূর্ণভাবে ভূল পরিকল্পনা।
উচিত ছিলো স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ।উচিত ছিলো সুন্দরবন উপকূলের নদী সমূহের হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভের মাধ্যমে গতিপথ ও নাব্যতা যাচাই পূর্বক বাঁধ নির্মাণ।
উল্লেখ্য যে,ঐ সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ভূমিকম্প এবং তার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট সুনামির প্রভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন কয়েকটি নদীর তলদেশে বড় ধরনের ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তন সহ নদী সমূহের গতিপথ এর কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে।ফলে উজানে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি সহ তীব্র স্রোতের প্রভাবে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত বাঁধের দৃঢ়তা কমে যেয়ে নদী ভাঙ্গন সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে।এছাড়াও,চিংড়ী চাষের সুবিধার্থে বাঁধ এর ভিতর পাইপ বসিয়ে লবণ পানি তুলে বাঁধের দৃঢ়তা কমিয়ে দিচ্ছে কতিপয় প্রভাবশালী সহ পাউবো এর অসাধু কর্তারা।লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে এমনিতেই মাটির দৃঢ়তা কমে গেছে।
যাইহোক,আজ পুনরায় গাবুরার নেবুবুনিয়াতে রিং বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।সুপার সাইক্লোন আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই বাঁধটি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেঁধে ফেলা হলেও পুনরায় বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসী শঙ্কিত হয়েছে।
অবশ্য আশার খবর উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য একনেকে একটা মেগা প্রকল্প পাশ হয়েছে যা অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে শুরু হবে।উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এবং উপকূলের মানুষের শঙ্কা দূর করতে কোন প্রকার প্রভাবিত না হয়েই এলাইনমেন্ট ও ডিজাইন করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.