বিশেষ প্রতিনিধি।।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাম জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ হয় অর্ধ শতাধিক মানুষ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরজ নামাজের মোনাজাত শেষে অনেকে সুন্নাত ও অন্য নামাজ পড়ছিলেন।এ সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে একাধিক এসির। মুহূর্তেই মসজিদের ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময়ে মসজিদে থাকা মুসল্লীদের গায়ে আগুনের ফুলকি গিয়ে পড়লে একে একে দগ্ধ হতে থাকে মুসল্লীরা। মসজিদের ভেতর থেকে আসতে থাকে মুসল্লীদের আত্মচিৎকার।
পরে আশেপাশের লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। তাদের অনেকের শরীরের কাপড় ছিল না। আগুনে পুড়ে যায় শরীরের কাপড়গুলো। আহতদের প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আনার পর তাদেরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার বার্ণ ইউনিটে পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ জানান, অগ্নিদগ্ধের মধ্যে ২০জনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা পাঠানো হয়েছে। তাদের শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে।
পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাম জামে মসজিদের সামনে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ ৩৭ জনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু জানান, ঘটনার পর দগ্ধ রোগীরা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আনা হলেও একজন রোগীকেও ধরেননি ডাক্তাররা। তাদের হাসপাতালের ফ্লোরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় রোগীদের।
তিনি আরও জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ভেতরে একের পর এক লোকজন পড়ে আছে। ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা গরম তেল মুসল্লীদের শরীরে পড়ছে। এতে করে তাদের সকলেই দগ্ধ হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার নাজমুল হোসেন জানান, রাত ৯টা হতে একের পর এক রোগী আসতে থাকে। তাদের সকলের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়নি। যেসব রোগী এসেছে তাদের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ঘটনাস্থল থেকে জানান, মসজিদের ভিতরের ৬টি এসি একে একে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে মুসল্লীরা অগ্নিদগ্ধ হলে এলাকাবাসী দ্রুত মুসল্লীদের উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর আশেপাশের শত শত লোক মসজিদের আশেপাশে ভিড় জমায়। সমগ্র এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় এলাকায় ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। মসজিদের এসি ও বাইরে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর পুরো মসজিদের ভেতরে এক ধংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মসজিদের জানালার গ্লাসগুলোর সবগুলো ভাঙা ছিল। ভেতরে কয়েকটি চেয়ার ছিল ভাঙাচোরা। ফ্যানগুলোও বাকা হয়ে যায়। ভেতরে থাকা দেড় ও ২ টনের ৬টি এসির সবগুলো বিস্ফোরণ ঘটে ভেতরের যন্ত্রাংশ বেরিয়ে গেছে। মসজিদের ভেতরে ফ্লোরের কিছু স্থানে রক্তের পানি দেখা গেছে। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক নাদিমের অবস্থাও আশংকাজনক।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।
খবর পেয়ে রাতেই জেলা প্রশাসক মো: জসিম উদ্দিন ও পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মসজিদে জেনারেল কোম্পানীর ৬টি এসি ছিল। বিদ্যুৎ এর আপ ডাউনের ফলে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর একে একে মসজিদের এসিগুলি বিস্ফোরণ ঘটলে মসল্লীরা অগ্নিদগ্ধ ও আহত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.