মুজাহিদুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুরঃ
লক্ষীপুর জেলা, সদর ২০ নং চর রমণীমোহন ইউনিয়নের নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দায়ের করেছে চিহ্নিত চোর আমির হোসেন। মামলা প্রত্যাহার ও সঠিক রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃতি-ঘটনার সঠিক বিচারের দাবিতে ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) জুম্মার নামাজের শেষে সদর উপজেলার মজুচৌধুরী হাট মসজিদ সংলগ্ন এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন অত্র ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক সমাজ।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য দুলাল মোল্লা, শাহজাহান, দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, এডভোকেট মোস্তাফিজিুর রহমান সবুজ, রফিক মেম্বার, ডাঃ আব্দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বাবর, বাচ্চু মাস্টার, কাজি রেদওয়ান, দেলোয়ার, ইউনুছ, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ১ম যুগ্ম আহবায়ক আদনান মাহমুদ রিমন, আবদুল খালেক , মোহাম্মদ নিজাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুমন, গফুর ভূঁইয়া, এম এ জাহের, কাজী রেদওয়ান, রিয়াজ মাহমুদ, আমজাদ, সোহেল, কাজল, তৈয়ব আলী, সোহাগ, ডাক্তার রাসেল, ডাক্তার মহিউদ্দিন প্রমুখ।
সম্প্রতি চররহণী মহন ইউনিয়নে চুরি-ডাকাতি বেড়ে গেছে। গত (২৪ আগস্ট) আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তি চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে গণপিটুনির শিকার হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ চর রমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়াল সহ ইউনিয়নের সাধারন জনগণের জন্য চোর আমির হোসেনকে দিয়ে একটি লেখিত মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ গত (২৪আগস্ট) আমির হোসেন নামের এক চোরের বিচার করতে গিয়ে তার দেয়া মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গেলেন অত্র ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল সহ অত্র ইউনিয়নের নিরীহ জনগন। মঙ্গলবার রাতে আমির হোসেন বাদী হয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ দশ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও আট জনকে আসামি করে সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে বুধবার ভোররাতে পুলিশ জুলহাস, দেলু মুন্সী ও সাইজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, সম্প্রতি আমির হোসেন স্থানীয় বাচ্চু মাস্টারের বাড়ীতে গভীর রাতে চুরি করতে প্রবেশ করলে হাতে-নাতে আটক হন। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা আমির হোসেনকে গণ-ধোলাই দেয়। এ সত্য-ঘটনাকে ধামা-চাপা দিতে একটি চক্র চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়াল সহ এলাকার নিরীহ জনগণকে আমির হোসেনকে বাদি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, জীবনে আমরা এই প্রথম দেখলাম চোরের বিচার করতে গিয়ে বিচারকরা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। আমরা কখনো ভাবিনি এভাবে চোরের বিচার করার পর এভাবে মানববন্ধন করতে হবে। চোরকে এভাবে আশ্রয় প্রশ্রয় দিলে সমাজব্যবস্থা বলতে কিছুই থাকবে না। একটি চোর চুরির অপরাধে যেখানে জেলহাজতে যাবে সেখানে তার বিপরীত। আজ এই সুশীল সমাজকে জাহারা নষ্ট করতে চায় আমরা বেঁচে থাকতে তা হতে দিবোনা। এভাবে যদি চোরের বিচার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষেরা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় তাহলে ভবিষ্যতে চোরেরা চুরি করতে, গুন্ডারা গুন্ডামি করতে কোনও দ্বিধা করবে না। তাই আমরা সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মী ভাইদের বলতে চাই আপনারা সঠিকভাবে তদন্ত করে অন্তরালে থাকা দোষীদের মুখোশ উন্মোচন করুন এই আমাদের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.