নিজস্ব সংবাদদাতা ।।
লক্ষ্মীপুরে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভনে চার ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে শাহেদুল আলম রিভান, নওরোজ মাস্টার, সাব্বির আহমেদ ও রুবেল হোসেন এর বিরুদ্বে।
প্রতারণার শিকার ওই চার ব্যক্তি হলেন সদর উপজেলার ১৯ নং তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের আব্দুর রহমান, মিলন,শাহ আলম ও স্বপন । ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা সর্বস্ব হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, লক্ষীপুর জেলার সদর ভবানীগঞ্জ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মাস্টার নওরোজ হাসান অত্র ইউনিয়নের শিক্ষক হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। তারই সুবাদে তিনি আব্দুর রহমান, শাহ আলাম, মিলন ও স্বপনের পরিবারের সাথে বিদেশের ব্যাপারে আলোচনা করেন। বিভিন্নভাবে তাদেরকে প্রলোভন ও মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়ে এক পর্যায়ে তাদেরকে প্রবাসের জন্য রাজি করান। ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান, শাহ আলম, মিলন ও স্বপনের পরিবারসহ অত্র ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তি নুরুল আলম এর কাছে গিয়ে প্রবাসের ব্যাপারে তাকে জানান।
নুরুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যখন আমার কাছে এসেছে তখন এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি নওরোজ মাস্টারের সাথে আলোচনা করেছি এবং বলেছি যে ওরা গরিব মানুষ, ব্রিকফিল্ডে কাজ করে কোনরকম জীবন যাপন করে। যদি প্রবাসের ভালো ভিসা হয়, ছলচাতুরি না হয়, তাহলে আপনি যত কম খরচে পারেন তাদেরকে নেয়ার চেষ্টা করবেন।
নুরুল আলম আরো বলেন,এরইমধ্যে আমাকে কিছু টাকা পয়সার অফারও দিয়েছেন নাওরোজ মাস্টার।আমি বলেছি আমার কোন টাকা পয়সা লাগবে না ওরা গরিব মানুষ ওদের থেকে কম নিলেই চলবে। এদিকে বিদেশের জন্য আব্দুর রহমান, শাহ আলাম, মিলন, স্বপন বিভিন্ন স্থান থেকে তারা ধার-কর্জ করে বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন করে জনপ্রতি( ২লাখ ৬৭ হাজার) টাকা করে তারা জমা দেয় নওরোজের কাছে।
বিদেশে পাঠানোর কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকায় পাওনা টাকা ফেরত পেতে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার, লক্ষীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈদিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ এর ৩১(খ) ৩৩ ও ৩৬ ধারা একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার সি আর ৬৫২/১৯ইং ।
ভূক্তভোগী পরিবার জানান,আমরা জমি বিক্রি ও বন্ধক রেখে এবং এনজিও থেকে সুদে টাকা নিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়েছি।এখন সুদের টাকা পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসারের খরচ মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।আমাদের বিদেশ যাওয়ার সুরাহা না হওয়ায় আমরা আদালতে মামলা করেছি।
এ বিষয়ে নওরোজ মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওমর ইউসুফ রুবেল নামে আমার এক বন্ধুর সাথে সম্পর্ক ছিল,তিনি এসে আমাকে মালয়েশিয়া জনবল নেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা ছেয়েছেন। আমি তাঁর কথা বিশ্বাস করে শাহেদুল আলম রিভান ও সাব্বির আহমেদের সাথে কথা বলি। তাদেরকে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য তারা আশেপাশে ২-৩ জনকে নেওয়ার সত্যতাও দিয়েছে আমাকে। তারই সুবাদে আমার ইউনিয়নের আব্দুর রহমান, শাহ আলাম, মিলন ও স্বপনের পরিবারের সাথে প্রবাসের কথাবাত্রা বলে থাকি। তাদের অভিভাবক হিসাবে কাজ করেছে একই ইউনিয়নের নুরুল আলম নামের এক ব্যক্তি। পরিশেষে ওনার সাথে কথা বলেই প্রবাসের সকল বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এরই মধ্যে রিভান ও সাব্বির যে আমার সাথে এমন প্রতারণা করবে আমি তা কল্পনাও করি নাই। আমি নিজেও জানি যাদের কাছ থেকে আমি টাকা নিয়েছি তারা অত্যন্ত গরীব। আমিও চাই তারা তাদের টাকাপয়সা ফিরে পাক।
নওরোজ আরো বলেন, আমি রিভান ও সাব্বিরের জন্য লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। যাহার জিয়ার নাম্বার ৮২২/১৯ ইং।
পরিশেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সাহেদুল আলম রিভান, পিতা মৃত আবুল বাহার সাং, ফাজিলপুর, লাল পোল ফেনি। রিভানের শ্বশুর বাড়ির ঠিকানা :- পঞ্চায়েতের বাড়ী, সাং, আবির নগর, সদর জেলা লক্ষ্মীপুর। বর্তমান ঠিকানা ১০২/৩, সি- ব্লক ঝিগাতলী, ট্যানারি মোড়, ঢাকা। তার সাথে আমার ০১৮১৪২২২৭১৭ এই নাম্বারে যোগাযোগ হয়েছিল। এছাড়া সাব্বির আহমেদের পিতা দেলোয়ার হোসেন, ফজুমিয়া পঞ্চায়েতের বাড়ী, উভয় সাং আবিরনগর, লক্ষীপুর, পৌরসভা, থানা, সদর জেলা লক্ষ্মীপুর। যার কারণে আমি এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি, সে আমার বন্ধু ওমর ইউসুফ রুবেল, পিতা হোসেন আহমদ, সাং আবিরনগর, লক্ষ্মীপুর। আমি চাই এই প্রতারক চক্রের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক এবং ভুক্তভোগী গরিব পরিবারগুলো তাদের টাকাপয়সা ফিরে ফাক।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.