প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৮, ২০২৬, ৮:২০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০, ৯:০৫ পি.এম
মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন; কমলনগর- রামগতির এই জনপদের দুর্দশার গল্প

শাকিল মাহমুদ,কমলনগর ।।
জীবনের গতি যেমন থেমে নেই। তেমনি নদী স্রোতের জোয়ার-ভাটাও থেমে নেই। নদীর স্রোতের সাথে দুর্দশার চরম বিষাদ বয়ে নিচ্ছে এই জনপদের লাখো মানুষ।
বলছি লক্ষীপুর জেলার কমলনগর-রামগতির দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের গত কয়েক দশকের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা।
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর তীরে কমলনগর-রামগতি উপজেলার অবস্থান। বিগত বেশ কয়েক বছরের ভয়াবহ ভাঙনে এখানকার সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনাসহ বিশাল এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার পাঁচ উপজেলার রামগতি এবং কমলনগর সরাসরি মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত। অপর উপজেলা লক্ষ্মীপুর সদর এবং রায়পুরের সামান্য কিছু অংশে মেঘনা প্রবাহমান। ১৯৭৬ সালে নির্মিত বেড়ি বাঁধের মাধ্যমে তিনটি উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, শস্য উৎপাদন ও লবণাক্ত পানি প্রবাহ রোধ করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে উক্ত পোল্ডারের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৩৭ কিলোমিটার এলাকা মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ক্ষত-বিক্ষত হয় লক্ষ্মীপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার (মতিরহাট-মজুচৌধুরী হাট)। এরপর বেড়িবাঁধ না থাকায় রামগতি-কমলনগরে নদী ভাঙ্গন বেড়েছে জ্যামিতিক হারে।
সিডর পরবর্তী সময় থেকেই শুরু হয় এই জনপদের দুর্দশার গল্প। বেড়িবাঁধ না থাকায় ক্রমে ভেঙে যেতে থাকে রামগতি-কমলনগর এর প্রায় ১০ টি ইউনিয়ন এর অংশবিশেষ। কমলনগর উপজেলার সাহেবের হাট ইউনিয়ন, চর কালকিনি ইউনিয়ন, চর ফলকন ইউনিয়ন, চর মার্টিন ইউনিয়ন এর ৯০ ভাগ এখন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সাথে সাথে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এই এলাকার লাখো মানুষের স্বপ্ন। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।
কিন্তু দুঃখের বিষয়! গত কয়েক বছরের বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়নের ছোঁড়ায় এই জনপদের জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের কোনো উদ্যোগই চোখে পড়েনি।
এই জনপদের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের একটাই প্রাণের দাবি টেকসই নদী বাঁধের মাধ্যমে এই এলাকার মানুষকে নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা। ইতোমধ্যে টেকসই নদী বাঁধের জন্য জনগণ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে বিশেষ করে "কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চের" উদ্যোগে মানববন্ধন,বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথ সমাবেশ হওয়ার পরেও দায়িত্বশীল মহলের টনক নড়েনি।
আশার কথা হচ্ছে, রামগতি-কমলনগরের বর্তমান সাংসদ জনাব মেজর(অবঃ) আব্দুল মান্নান মহোদয় ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা,কমলনগরের কৃতী সন্তান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপকমিটির সহ-সম্পাদক আব্দুর জাহের সাজু ভাইয়ের উদ্যোগে টেকসই নদী বাঁধের প্রকল্প একনেকে পাশের অপেক্ষায় প্রক্রিয়াধীন।
এ বিষয়ে জানতে আব্দুর জাহের সাজু ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই জনপদের লাখো মানুষকে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। অতি শীঘ্রই অত্র প্রকল্প একনেকে পাশ হলেই আমরা এর সুফল পাবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তরুণ এই আওয়ামী লীগ নেতা।
এই অঞ্চলের সচেতন নাগরিক, শিক্ষিত-সুশীল সমাজ, ছাত্র-জনতা,রাজনীতিবিদদের একটাই চাওয়া অবিলম্বে টেকসই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে যাতে লাখো মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের উদ্যোগ নেয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.