হাবিব শিমুল,আদমদীঘি(বগুড়া) প্রতিনিধি ।।
বগুড়ার আদমদীঘিতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে এক ডিলারের চালবাজী ধরা পড়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক বিপুল পরিমান চাল জব্দ এবং ডিলারের নামে মামলা করা হয়েছে। এতে করে ২৪০ হতদরিদ্র মানুষ অক্টোবর মাসের চাল কবে পাবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া আরো ১৮০ জনের নিকট চাল বিক্রি করা না করা নিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে ধোঁয়াশা।
উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের হেলালিয়া বাজারের ডিলার ১০ টাকা কেজির চাল কার্ডধারীদের মাঝে বিক্রি না করে পাচার করার অপরাধে ডিলারের দোকান থেকে ভ্রাম্যমান আদালত সাড়ে ৮ মেট্রিক টন চাল জব্দ করেছে এবং ডিলারের নামে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর ১০ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ ডিলারকে গ্রেফতার করতে পারে নি। পাশাপাশি কবে কি ভাবে পুলিশ হেফাজতে থাকা চালগুলো অবমুক্ত এবং হতদরিদ্রদের মাঝে বিক্রি করা হবে তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
জানা গেছে, ডিলার বেলাল হোসেন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর প্রতিটি ৩০ কেজি ওজনের ৬৭০ বস্তা চাল বিক্রির জন্য উত্তোলন করেন ১১ অক্টোবর। ১২ ও ১৩ অক্টোবর চালগুলো কার্ডধারীদের মাঝে বিক্রি করার দিন ধার্য করা ছিল। ১২ অক্টোবর বিক্রয় নীতিমালা-২০১৭ মোতাবেক ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে ২৫০ জন কার্ডধারীর নিকট চাল বিক্রি করেন ডিলার। পর দিন মঙ্গলবার ডিলার তার ব্যক্তিগত মামলার হাজিরা দিতে বগুড়া যান। এজন্য এদিন ট্যাগ অফিসার সেখানে যান নি। ১৪ অক্টোবর ভোরে ওই ডিলারের দোকান থেকে ৫০ কেজি ওজনের ১৫ বস্তা (প্লাস্টিক বস্তা) চাল ইজিবাইকে করে পাচার করার সময় স্থানীয় জনতা ধরে পুলিশকে সংবাদ দেয়। আদমদীঘি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালসহ বাহন আটক করে।
এ ঘটনায় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা হক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ওই ডিলারের দোকান থেকে খাদ্য বিভাগের সিলমোহরযুক্ত ৩০ কেজি ওজনের ২৩৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের প্লাস্টিকের বস্তায় আরো ১৫ বস্তা চাল জব্দ করেন। পরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিতোষ কুমার কন্ডু ওই দিন রাতে ডিলার বেলাল হোসেনের নামে আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দাবী করেছেন যে, ১৩ অক্টোবর ১৮০ জনের মাঝে চাল চাল বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার ও ট্যাগ অফিসার ছাড়া কার নির্দেশে কে সরকারি চাল বিক্রি করেছেন সে ব্যাপারে খাদ্য কর্মকর্তা কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি। এদিন চাল বিক্রি সংক্রান্ত তালিকায় ট্যাগ অফিসারের স্বাক্ষর নেয়ার জন্য সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক সরদার টুলু তদবির করেছে বলে তথ্য মিলেছে। এ ব্যাপারে ট্যাগ অফিসার কামরুল আহসান কাঞ্চন বলেন, ওই দিন চাল বিক্রি করা হবে তা ডিলার আমাকে কোন ভাবে জানায় নি। আমি উপস্থিত ছিলাম না। এমন অবস্থায় স্বাক্ষর করার কোন সুযোগ নাই। তার স্বাক্ষর নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও খাদ্য বান্ধব ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি’র তদবির করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিলারের পরিবর্তে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কেন তদবির করছেন এ নিয়ে ওই এলাকার সচেতন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ের সত্যতা জানার জন্য চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলুর মোবাইল ফোনে সংবাদকর্মী একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.