মিজানুর রহমা,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বন্দর মসজিদে, আবু ইউনুছ মোঃ শহীদুন্নবী জুয়েল হত্যায় গঠিত, জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি,জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে।তদন্ত প্রতিবেদনে কোরআন অবমাননার সত্যতা মেলেনি,তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টি.এম.এ মমিন, ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক সাইদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।
এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টি.এম. এ মমিনকে প্রধান করে তিন কার্যদিবসের সময় দিয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তিতে কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে গতকাল বুধবার প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আজ বৃহস্পতিবার ১২/১১/২০২০ সকালে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের হাতে প্রতিবেদন তুলে দেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টি.এম.এ মমিন সাংবাদিকদের বলেন, ০৩ কার্য দিবস থেকে সময় বাড়িয়ে ৯ কার্যদিবস সময় নেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্ত করে কোরআন অবমাননার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এটি স্রেফ একটি গুজব। গুজব ছড়িয়ে জুয়েলকে পিটিয়ে ও পরে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে তিনি আরো বলেন, তদন্ত কার্যে মোট ৫০ জনের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহন করা হয়, তদন্ত কমিটি নিজেরা ৭টি সভা করার পর প্রতিবেদনটি মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়।
৬টি অধ্যায়ে ৪২টি অনুচ্ছেদে ৭৩ পাতা সংযুক্তিতে মোট ৬ পাতার তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছ। ঘটনার ভুমিকা, বিবরন, অধিকতর তথ্যানুসন্ধান, গভীর পর্যাবেক্ষন, সুপারিশ মালা ও মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে মোট ৪টি সুপারিশ স্থান পেয়েছে বলেও দাবি করেন তদন্ত কমিটির প্রধান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার গভিরে যেতে এবং নিবির পর্যবেক্ষনের জন্য আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৭-২০ টি ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করেছি। এসব দেখেও অনেক তথ্য উপাত্ত পেয়েছি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো: আবু জাফর বলেন, গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। সেখানে কোন কোরআন অবমানানার মত কাজ শহীদুন্নবী জুয়েল করেনি। শুধুমাত্র গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে-পুড়িয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে শহীদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচাত ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হত্যা মামলা, পুলিশ এসাল্ট ও সরকারী কাজে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী (এস আই শাহজাহান) হয়ে একটি মামলা ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙ্গচুর করায় আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাদ চেয়ারম্যান বাদী হয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর/২০২০) মোট ৩ টি মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর বিভিন্ন সময়ে মোট ৩২ জনকে আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে জনকে ৩ দিনের রিমান্ড ও প্রধান আসামী আবুল হোসেনকে ৫ দিনের রিমান্ড নেয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিরা সবাই বুড়িমারী এলাকার বাসিন্দা।
নিহত যুবক শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। সুলতান রুবায়াত সুমন নামে এক সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে আসেন তিনি। ওই দিন বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.