নোয়াখালী প্রতিনিধি ।।
কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে স্থানান্তরের প্রথম ধাপে নারী, পুরুষ, শিশুসহ ১৬৪২ জন রোহিঙ্গা নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে ৮১০ শিশু, ৩৬৮ জন পুরুষ ও ৪৬৪ জন নারী রয়েছেন।
শুক্রবার(৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তারা জাহাজে করে ভাসানচরে এসে পৌঁছায়। এর আগে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে যাত্রা করে এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ভাসানচরে আসা সকল রোহিঙ্গাদের প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তারপর ওয়ার হাউজে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের ব্রিফিং করেন। ব্রিফিং শেষে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রস্তুত রাখা ৭, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ক্লাস্টারে রাখা হয়। আগামী প্রায় এক সপ্তাহ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের রান্না করে খাওয়ানো হবে। এছাড়া ২২টি এনজিও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিতে ভাসানচরে অবস্থান করছে।
সকাল সোয়া ১০টার পর চট্টগ্রামের বোট ক্লাব, আরআরবি জেটি ও কোস্টগার্ডের জেটি থেকে জাহাজগুলো ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বলে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এমকেজেড শামীম জানান।
নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, গত বৃহস্পতিবার দুটো জাহাজে করে ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গাদের ১০১৯টি মালপত্রের লাগেজ ভাসানচরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে বিআইডাব্লিউটিসি বয়ারচর ভাসানচর ভায়া হাতিয়া রুটে একটি যাত্রীবাহী সি ট্রাক সার্ভিস চালুর অনুমতি দিয়েছেন।
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসান চরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।
বুধবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ বলেছে, রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে নেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছে, তার সঙ্গে জাতিসংঘের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
ভাসান চরে যাওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা যেন সব তথ্য জেনে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।
সেখানে বলা হয়, “এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে, অথবা শরণার্থীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। স্থানান্তরের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জাতিসংঘের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।”
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও (এইচআরডব্লিউ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.