শাহিনুর আলম শাহিন,হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
খাদ্য শষ্যের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত দেশের উত্তরের জনপদ দিনাজপুর জেলা। দিনাজপুরের সর্ব দক্ষিণে সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। পৌষের হিমেল বাতাসে দোলা দিচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে এখান কার কৃষকেরা।
জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নে ৮শ ২৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। কৃষকের শারীরিক পরিশ্রম ও নিবিড় পরিচর্যায়, বেড়ে ওঠা গাছ আর ফুল দেখে বেশি ফলনের স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার কৃষকেরা। গত বছর স্থানীয় বাজারে উন্নত জাতের সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, আমন ধান কাটার পর অনেক পরিশ্রম করে জমি তৈরি করে সরিষা বীজ বোপন করা হয়। বীজ লাগানোর ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মাথায় সরিষা ফলন ঘরে আসে। ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ মণ ফলন হয় সরিষার, যা বর্তমান বাজারে বিক্রি হবে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা।
উপজেলার ছাতনী গ্রামের সরিষা চাষি মাসুদ হাসান বলেন, আমন ধান কাটার পর জমিগুলো পড়ে থাকে তাই প্রতি বছর আমার জমিগুলোতে সরিষা চাষ করি। এবারও সরিষা চাষ করেছি। গাছ অনেক ভালো হয়েছে আশা করছি ফলনও অনেক ভালো হবে।
তিনি আরো বলেন,জমিতে সরিষা চাষের সময় সার প্রয়োগ করলে বোরো রোপনের জন্য আলাদাভাবে সার দিতে হয় না এটা আমাদের অনেক উপকারে আসে ।
উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের কোকতাড়া গ্রামের কৃষক রোস্তম আলী বলেন,আমন কাটার পর সরিষা চাষ করলে আমাদের অনেক উপকার হয় কারন সরিষা কাটাই-মাড়াই করে সেটা বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে বোরো ধান লাগায়। এটা আমাদের একটা বোনাস ফসল।
এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন,এটা স্বল্প খরচে একটি বোনাস ফসল যা প্রান্তিক কৃষকদের অনেক উপকারে আসে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান,মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সরিষা চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি আমরা।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা জানান,উপজেলায় এবার সরিষার চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এই উপজেলায় ৮শ ২০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হলেও এবার চাষ হয়েছে ৮শ ২৫ হেক্টর জমিতে। আমরা সরিষার চাষ বৃদ্ধির লক্ষে সরকারীভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এবার ৩ শ ৮০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ডিএপি,পটাশ ২০ কেজি ও ১ কেজি করে বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এবারে রবি মৌসুমে উপজেলার সরিষা চাষিরা বাম্পার ফলন পাবে বলে আমরা আশা করছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.