পাচারকারীর কবলে জিম্মি আবদুর রহমান,প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলাধীন ২নং নদনা ইউপি রমাপুর গ্রামের আমির হোসেনের পুত্র আবদুর রহমান দেশের শীর্ষস্থানীয় মানব পাচারকারী চক্রের জাকির আহাম্মেদ গংদের কবলে পড়ে ও জিম্মিতে আটক হয়ে তুরস্কে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পাচারকারী চক্র আবদুর রহমানের কাছ থেকে ৮ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে আরো টাকার দাবীতে প্রতিনিয়ত নির্যাতন নিপীড়ন ও প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জাকির আহাম্মেদ গংদের মানব পাচারের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে জানা যায়। আবদুর রহমানের পরিবার এ বিষয়ে তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

আবদুর রহমানের পরিবারসূত্রে জানা যায়, ২০১৫ইং সালে জীবিকার তাগিদে আবদুর রহমান ওমানে গমন করেন। সেখানে বাংলাদেশী টাকায় ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে। চাকরির সুবাধে সিলেট এলাকার লিটন আহাম্মেদ ও আকমত আলীর সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। বিষয়টি পাচারকারী চক্রের মধ্যস্থতাকারী মনির আহাম্মেদ সংগোপনে আকমত আলী গংদেরকে মদদ দিয়ে আবদুর রহমানকে ফ্রান্সে নেওয়ার জন্য অহরহ প্ররোচিত করে। সে সুবাধে মনিরের প্ররোচনায় আবদুর রহমানকে ওমান থেকে ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে তাদের প্রতিবেশী লিটন আহাম্মেদ ও আকমত আলীর মাধ্যমে পাচারকারী চক্রের সদস্য মনিরের সাথে তাদের কথাবার্তা হয়। মনিরের আÍীয় সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পতেপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জাকির আহাম্মেদ ( ওমানে ইস্যুকৃত পাসপোর্ট নম্বর ইগ-০৬০৫৮০০) এর সাথে টেলিফোনে মনিরের কন্ট্রাক মতে ৩ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা জাকির আহাম্মেদ গ্রহণ করে। এরপর আবদুর রহমানকে ওমান থেকে বিনা পাসপোর্টে সড়ক পথে তুরস্কে নিয়ে যায়। আবাসিক ভাড়া করে ১৫/২০ দিন থাকার পর জাকির আহাম্মেদ ভিক্টিম আবদুর রহমানকে জিম্মি করে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে। বিষয়টি নিয়ে আবদুর রহমান ওমানে থাকা তার বড় ভাই আহসান উল্যাকে অবহিত করে। এরপর জাকির আহাম্মেদ আহসান উল্যার সাথে মোবাইলে, ইমোতে, হোয়াট্স আপে কথা বলে শীঘ্রই আবদুর রহমানকে ফ্রান্সে পাঠানো হবে বলে আহসান উল্যার কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে। ছোট ভাই আবদুর রহমান জাকির আহাম্মেদের কবলে জিম্মি হয়ে থাকার বিষয়টি বড় ভাই আহসান উল্যা কিছুটা বুঝতে পারলেও ভাইয়ের ভবিষ্যতের চিন্তা করে বাংলাদেশে বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করে জাকির আহাম্মেদের দেওয়া তার বড় ভাই সাহাব উদ্দিনের বরাবরে বাংলাদেশে সিলেট জেলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর আম্বরখানা শাখায় মেসার্স রশিদ টেলিনেট শাখা ব্রাঞ্চে ২০৫০১৬৬০১০০৩৯৫১১৮ হিসাব নাম্বারে সোনাইমুড়ী ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে বিভিন্ন ধাপে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং বিকাশে ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রদান করে। ইতিমধ্যে জাকির আহাম্মেদ আবদুর রহমানকে আরও ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। টাকা না দিলে আবদুর রহমানকে হত্যা করার হুমকি অব্যাহত রাখে। পাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে টাকা পয়সা হারিয়ে ও আবদুর রহমানের জীবন বাচাতে পরিবারের লোকজন দিশেহারা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আবদুর রহমানকে বাচাতে তার পিতা ও পরিবারের লোকজন তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তা, ইন্টারপুলসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরী পদক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে জাকির আহাম্মেদ এর গ্রামের বাড়ীর প্রতিবেশী ও স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল আজিজ জানান, জাকির আহাম্মেদ বিদেশে থাকে। বিদেশে থাকায় ওখান থেকে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর বিষয়ে আমি শুনেছি। কিছুদিন আগে নোয়াখালী জেলার ১ জন আমাকে টেলিফোন করে তার ভাইকে ওমান থেকে ফ্রান্সে নেওয়ার কথা বলে টাকা পয়সা নিয়ে সড়ক পথে বিনা পাসপোর্টে তুরস্ক নিয়ে যায়। জাকিরের কথা মতে কিছু টাকা বাংলাদেশে জাকিরের ভাই সাহাব উদ্দিনের নামে ইসলামী ব্যাংক শাখায় পাঠিয়েছে। ঐ লোকটি এখনো তুরস্কে রয়েছে। ফ্রান্সে নেওয়ার জন্য আরও টাকা দাবী করার বিষয়ে ঐ লোক আমাকে ফোনে কয়েকবার জানিয়েছে।