মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার এক স্কুল শিক্ষক করোনার টিকা নিতে গিয়ে দেখেন, জাতীয় পরিচয় পত্রের ডাটাবেজে ছয় বছর আগে তিনি মারা গেছেন। বিড়ম্বনার স্বীকার ঐ স্কুল শিক্ষক এখন করোনার টিকা নিতে পারছেন না।
ঘটনার স্বীকার লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়ন কাকেয়া টেপা গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মীকান্ত রায়। তিনি দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষকতা করে আসছেন আদিতমারি উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়ন বালাপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে।করোনা র টিকা নিবন্ধনের জন্য গেলে, জাতীয় পরিচয় পত্রের ডাটাবেজে তাকে মৃত ব্যাক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য সদর উপজেলা নির্বাচন কমিশনে গেলে তাকে জানানো হয় ২০১৩ সালের ৩রা জুন তিনি মারা গেছেন,তাই ভোটার তালিকা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানায়, ২০১৫ সালে লক্ষ্মীকান্ত বর্মনের আইডি কার্ড দেখিয়ে মন মোহন রায় নামক এক ব্যাক্তি তার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেবার আবেদন করে।আবেদনে লক্ষী কান্তের বড় ভাই হিসেবে মন মোহন নিজেকে দাবী করে।নির্বাচন কমিশন এক স্কুল শিক্ষকের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে,সেই যাচাই পরিপত্রে মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বাক্ষর করেন।সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামানের অনুমোদন দিলে জাতীয় পরিচয় পত্রের তালিকা থেকে লক্ষ্মীকান্ত রায়ের নাম চুড়ান্ত ভাবে বাদ দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় স্কুল শিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত রায় জানান তার প্রতিবেশী মনমোহন রায়,তার সাথে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিন যাবত ঝামেলা চলছে এবং জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
মনমোহন রায় এই প্রতিবেদক কে জানান, প্রতিবেশী লক্ষীকান্তের সাথে তার বিরোধ রয়েছে, তবে সে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষী কান্তের নাম বাতিলের আবেদন করেন নি।
এদিকে লক্ষীকান্তের নাম বাদ দেবার জন্য যে শিক্ষক তথ্য যাচাই করেছেন, তার নাম মমিনুর রহমান,তার বাড়ী কুলাঘাট ইউনিয়নের ধাইরখাতা গ্রামে,সে ধাইর খাতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।প্রতিবেশী মন মোহন রায় তাকে প্রত্যায়ন পত্রে স্বাক্ষর করতে বলেছে বিধায় প্রমানপত্রে স্বাক্ষর করেছে।লক্ষীকান্তরায় মৃত হিসেবে মনমোহন রায় আমাকে তথ্য নিশ্চিত করেছে বিধায়, প্রমান পত্রে স্বাক্ষর করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেবার জন্য আমি স্বাক্ষর করেছি।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজাদুল হেলাল বলেন, লক্ষী কান্ত রায় সহ সদর উপজেলার আটজন ভোটার এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে,তাদের নতুন ভাবে তালিকাভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।ভুক্তভূগী লক্ষীকান্ত রায় বলেছেন এই ঘটনার কারনে ২০১৬সালে এবং ২০১৮সালের নির্বাচনে আমি ভোট দিতে পারেনি।আমি বিষয়টি ভূলবশতঃ ভেবে নিশ্চুপ ছিলাম।কিন্তূ এবার করোনার টিকা দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার স্বীকার হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হয়।আগামী এক মাসের মধ্যে এই ঘটনার সুরাহা না হলে আমি আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.