নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর উপহার (জমি ও ঘরসহ নতুন নৌকা) পেতে যাচ্ছেন শক্ত হাতে সংসারের হাল ধরা লক্ষ্মীপুরের সেই নৌকার মাঝি সংগ্রামী নারী মায়া বেগম। একই সঙ্গে তার তিন মেয়ের পড়াশুনার দায়িত্বও নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (০৪ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ মায়ার হাতে নগদ ১০ হাজার অনুদানের চেক তুলে দেন। এসময় জেলা প্রশাসক এ ধরণের অন্য কারো খোঁজ ফেলে তাদের পাশে দাঁড়ানোরও আশ্বাস দেন তিনি।
এসময় জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ঝড় বৃষ্টির মধ্যেও যে নারী খেয়া পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সেটি উপলব্ধি করেই প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে তাকে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেয়ার স্বিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তার তিন কন্যার উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্বও নেয়া হয়েছে। সরকারি এ সহায়তার মাধ্যমে তাদের দারিদ্র বিমোচনসহ তিন কন্যার উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে বলে জানান তিনি।
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভৃঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: শাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম, মায়া বেগমের পিতা নুরুল আমিন, স্থানীয় ইউপি মেম্বার আলমগীর হোসেন, সংবাদকর্মী সহ আরো গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের তালহাটি গ্রামের ওয়াপদা খালে খেয়া পারাপার করে দিন যাপনসহ জীবন সংগ্রামে লড়ছেন মায়া বেগম। যাত্রীদের থেকে নেয়া টাকায় স্বামীর রেখে যাওয়া তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে ঢিমেতালে চলছিল তার সংসার।
তখন মায়া জানান, তিন মেয়েকে নিয়ে স্বামীর সংসারে ছিলেন মায়া। হঠাৎ করে প্রায় ৮-১০ বছর আগে সংসার চালানোর অক্ষমতায় তাদের ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান তার স্বামী। পরিবারের আর কেউ উপার্জনক্ষম না থাকায় সমাজের সাথে আপোষহীনভাবে সংগ্রামী হয়ে উঠেন মায়া। এরপর জীবন-জীবিকার বাস্তবতায় হাতের ব্যাথায় মলম পড়ে রোজ, তবে মনের ক্ষত শুকায়না তার। স্থানীয় তালহাটি গ্রামে নিজেদের বাড়ীতে সন্তানদের নিয়ে মায়ের ঘরের পাশে খুপড়ি ঘরে বসবাস করেন তিনি। আর শক্ত হাতে সংসারের হাল ধরতে বৈঠা হাতে নৌকার মাঝি হলেন জীবন যোদ্ধা নারী।
সন্তানদের দু-বেলা দু-মুঠো ভাত যোগানো আর তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে একাই জীবনযুদ্ধে লড়ছেন তিনি।
সম্প্রতি মায়ার সংগ্রামী জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। নজর আসে জেলা/ উপজেলা প্রশাসনের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় মায়া ও তার পরিবারের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে প্রশাসন।
এদিকে এমন খবরে মায়ার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বেশ খুশি ও আনন্দিত হওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। একই অনুভূতি প্রকাশ করেন তার বাবা নুরুল আমিন ও ইউপি মেম্বার।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.