মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাটে,বিজিবি বিশেষ ক্যাম্পের হাবিলদার আনোয়ারের রোষানলে পড়ে এক সাংবাদিক কে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা ধামা চাপা দিতে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতিত সাংবাদিক কে থানায় প্রেরন করেছে বিজিবি।এই ঘটনায় স্থানীয় জনগন সহ জেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিক ক্ষুদ্ধ।
শুক্রবার ১৬ ই এপ্রিল রাত সাড়ে বারোটার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন বেইলি ব্রিজ এলাকায়, দৈনিক জনকন্ঠের জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম সাহিন মোটর সাইকেল যোগে এসে পৌছালে,কর্তব্যরত বিজিবি হাবিলদার আনোয়ার হোসেন তাকে গাড়ী থামতে বলেন,গাড়ী থামিয়ে সাংবাদিক সাহিন তার পরিচয় দিলে,চেক পোস্টের দ্বায়িত্বে থাকা বিজিবি হাবিলদার আনোয়ার হোসেন ক্ষুদ্ধ হয়ে সাংবাদিক সাহিনের কলার ধরে বলেন, শালা সাংবাদিকের গুষ্টি মারি তুই এর আগে আমার নামে সি ও বরাবরে কমপ্লিন করেছিস, আজ তোকে পেয়েছি দেখি তোকে কে বাঁচায়,এ কথা বলেই বিজিবি হাবিলদার আনোয়ার হোসেন, সিপাহী সরওয়ার, সহ অন্য দুই বিজিবি সদস্য হাতে থাকা লাঠি দিয়ে এলোপাথারি মারতে থাকে, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ক্ষুদ্ধ বিজিবি সদস্যরা গুলি করার হুমকি দেয়।এই ঘটনায় আশেপাশের মানুষজন জড়ো হলে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে সাংবাদিক সাহিন কে কুলাঘাট বিশেষ ক্যাম্পে নিয়ে আসে।
এই খবর পাওয়ার পর লালমনিরহাট জেলা বিএমআই সাংবাদিক কল্যান ট্রাস্টের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম রতন,সময় সংবাদ,কম জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান,৭১টিভির জেলা প্রতিনিধি উত্তম রায় সহ অন্যান্য সাংবাদিক কুলাঘাট বিজিবি ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে, বিশেষ ক্যাম্পে দ্বায়িত্বে থাকা হাবিলদার আনোয়ার সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।
এসময় কুলাঘাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জোবেদ হোসেন,কুলাঘাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি হামিদুল হক ভেন্ডার সহ একাধিক ব্যাক্তি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, কুলাঘাট বিজিবি ক্যাম্পের দ্বায়িত্বে থাকা হাবিলদার আনোয়ার গত তিন মাস অধিক এই ক্যাম্পের দ্বায়িত্বে রয়েছেন,তিনি প্রায়শঃই নিরীহ জনগন কে তুলে এনে এই ক্যাম্পে নির্যাতন করেন, এছাড়া এই এলাকার সকল মাদক ব্যাবসায়ীর সাথে রয়েছে তার সখ্যতা,তাদের নামের তালিকা সংগ্রহ করে বেশ কিছুদিন যাবত ব্রিজের গোড়ায় চেক পোস্ট নির্মানের নামে চাঁদাবাজি করছেন।এই পর্যন্ত তিন লক্ষ টাকা বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে বিজিবি আনোয়ার চাঁদা উত্তোলন করেছেন।দশ থেকে পনের হাজার টাকায় সেটি নির্মান হবার কথা,অথচ লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা উত্তোলন করেও সেটির কাজ শেষ করছেন না চাঁদা তোলার আশায়।সরকারি চাকুরি করে জনগনের কাছ থেকে এভাবে চাঁদা তোলার কোন নিয়মে পড়ে কি না তা বোধগম্য নয়।সাংবাদিক সাহিনের কাছে অবৈধ কোন দ্রব্য পাওয়া যায়নি উপস্থিত জনসাধারণ তা জানিয়েছেন।সাংবাদিক সাহিনের মটর সাইকেল সওয়ারী অপর ব্যাক্তিকে বিজিবি সে সময় ছেড়ে দিয়েছে।
কুলাঘাট বিজিবি ক্যাম্পে বিক্ষুব্ধ জনগন ও সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে বিজিবি ক্যাম্প থেকে তড়িঘড়ি করে সাংবাদিক সাহিন কে লালমনিরহাট সদর থানায় প্রেরন করে।এই ঘটনার প্রতিবাদে লালমনিরহাটে কর্মরত সকল সাংবাদিক বৃন্দ লালমনিরহাট সদর থানায় অবস্থান গ্রহন করে।দিন ভর নানা নাটকীয়তা শেষে,বিশেষ আদালতে লালমনিরহাট জেলা জজ তাকে জামিন দিলে জাহাঙ্গীর আলম শাহিন মুক্ত হয়ে আসেন।
এদিকে বিজিবি আনোয়ারের এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেছে কুলাঘাট ইউনিয়নের সাধারন জনগন সহ লালমনিরহাটের
সকল সাংবাদিক বৃন্দ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.