মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় ২রা ডিসেম্বর অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ক্লূলেস সেই হত্যা মামলার আসামী দের গ্রেফতার সহ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা সময় সংবাদ,কম কে জানান,গত ২রা ডিসেম্বর পাটগ্রাম উপজেলায় ধর্ষণের পর হত্যা করে ফেলে রেখে যাওয়া অজ্ঞাত নারীর পরিচয় সহ, ক্লূলেস সেই হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার সহ মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরনে পুলিশ সুপার জানান,গত ২রা ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার মোমিনপুর এলাকায়,লালমনিরহাট- পাটগ্রাম মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত এক নারীর বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা ঐদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।অজ্ঞাত ঐ নারীর পরিচয় তাৎক্ষনিক পাওয়া না গেলেও মামলার ভার সিআইডি কে দেওয়া হলে,সিআইডি তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ১২জানুয়ারীতে অজ্ঞাত ঐ নারীর পরিচয় উদঘাটন করে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অধিক তদন্ত করে জানতে পারে, অজ্ঞাত ঐ নারীর নাম হামিদা আক্তার নার্গিস (২৪),পিতা-রফিকুল ইসলাম,বাড়ি ভরডোবা,ত্রিশাল, ময়মনসিংহ জেলা। ঐ নারী বিবাহিত ছিলেন,স্বামীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না, তিন বছর ধরে নতুন করে প্রধান আসামী শেরপুর জেলার ট্রাক চালক জিরাব আলী (২৮) র সাথে প্রেমের সম্পর্ক্যে জড়িয়ে পড়েন ঐ নারী।তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক্য থাকলেও ভিকটিম কে বিবাহ না করার টালবাহানা করছিলেন প্রধান আসামী,এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ নারী বিভিন্ন জায়গায় যান আসামীর প্রতি চাপ তৈরী করতে,এক সময় আসামীর বাড়ীতে যান বিয়ের দাবী নিয়ে।আসামী জিরাব আলী ইতিপূর্বেই দুই বিবাহ করায় এবং সন্তান থাকায় এই নারীকে বিবাহ করতে অস্বীকৃত জানায়।ভিকটিমের বিবাহের চাপে অতিষ্ঠ হয়ে পথের কাটা দুর করতে হামিদা আক্তার নার্গিস কে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা মাফিক প্রধান আসামী ট্রাক চালক জিরাব আলী,অপর আসামী ভাতিজা সহকারী চালক সাহিনুর ইসলাম ট্রাকের ভাড়া নিয়ে ঢাকা থেকে রংপুর আসেন,রংপুর পৌছার আগে ভিক টিম কে মোবাইল ফোনে রংপুর সাতমাথায় থাকতে বলেন।সাত মাথায় পৌছে ভিকটিম কে ট্রাকে উঠিয়ে পীরগাছা,কুড়িগ্রাম,যান,সেখানে ট্রাকের মালামাল আনলোড করান।তারপর তারা ১লা ডিসেম্বর পাটগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন,পথে বাউরা বাজার এলাকায় এসে অবস্থান নিয়ে ভাড়া ধরার চেষ্টা করেন,পরের দিন খড়ের ভাড়া ঠিক হলে সেদিন বাউরা বাজার আশে পাশে ভিক টিম সহ ট্রাকে শারীরিক সম্পর্ক্য করেন।ঐ দিন রাত ১২টার দিকে মমিন বাজার এলাকায় ঘটনাস্থলে ট্রাক নিয়ে আসামিরা আসেন, ট্রাকের সামনে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দিয়ে ট্রাকে থাকা ভিক টিম সহ শারীরিক মেলামেশা করেন প্রধান আসামী,তারপর বালিশ দিয়ে ভিক টিম কে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন। রাস্তার ঢালে ভিক টিম কে ফেলে দেন, এসময় ভাতিজা সাহিনুর কে মৃত্যূ নিশ্চিত করতে মারতে বলেন,এসময় ট্রাকের লিভার দিয়ে ভাতিজা ভিকটিমের মাথায় আঘাত করেন।তারপর তারা বড়খাতা পেট্রলপাম্পে রাত্রী যাপন করে পরের দিন রাতে খড়ের ভাড়া নিয়ে নোয়াখালি যান।
অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা অধিকতর তদন্ত করতে মামলাটি সিআইডিতে প্রেরন করেন।সিআইডি তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ভিকটিমের পরিচয় উদ্ধার করে,তারপর তার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ধরে দীর্ঘ তদন্তের পর আসামী জিরাব আলী ,ও হেলপার সাহিনুর ইসলাম কে নারায়ন গঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামিরা ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.