বগুড়া প্রতিনিধি ।।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা পরিষদের চত্ত্বরে ফুলগাছ খাওয়ার অপরাধে ছাগলকে ৫দিন আটকে রাখার পর ২ হাজার টাকা জরিমানা করে অবশেষে বাজারে বিক্রি করে আলোচনায় আসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিনকে অবশেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
আজ বুধবার( ৯ জুন ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়ার জেলা প্রশসাক জিয়াউল হক বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টার করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
গত ১৭ মে দিনে ছাগলটি উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ঢুকে ফুলগাছের পাতা খায়। এঘটনায় ছাগলটি আটক করে রাখে ইউএনও। ছাগলের মালিক সাহারা বেগম ছাগলটি দেখতে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুজির পর দেখতে পায় উপজেলা চত্ত্বরের ভিতর ছাগলকে বেধে রেখে নির্বাহী অফিসারের সিকিউরিটি গার্ড এক আনসার সদস্য ঘাস খাওয়াচ্ছে।
ছাগলের মালিক ছাগল নিতে চাইলে তাকে দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেয় আনসার সদস্য। নিরুপাই হয়ে ছাগলের মালিক ছাগল ফেরত নেওয়ার জন্য ৫দিন ধরে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট ধর্ণা দিলে তাকে কোন পাত্তা না দিয়ে বরং ছাগলের মালিকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং বলে ছাগলের দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, জরিমানার টাকা দিয়ে ছাগল ছেড়ে নিয়ে যান।
এদিকে ছাগলের মালিক জরিমার টাকা জোগার করতে না পারায় আবশেষে ইউএনও গত ২২ মে শনিবার ছাগলটি বিক্রি করে দেয় এবং ছাগলের মালিককে খবর দেয় যে ছাগল বাজারে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে জরিমানার ২ হাজার টাকা বাদ দিয়ে ৩ হাজার টাকা নিয়ে আসেন।
এই খবর জানার পর থেকে ছাগলের মালিক বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিয়ে কোনও সুফল পায়নি। এ ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে আলোচনায় আসলে গত ২৭ মে জরিমানার টাকা ইউএনও নিজে ফেরত দিয়ে ছাগলটি তার মালিক সাহারা বেগমের কাছে ফিরিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক মোবাইলে বলেন, 'ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় ঠিক নয়। ওই ইউএনও বদলি হয়েছেন। তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগে বদলি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে। এটা নিয়মিত বদলি'।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.