নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
লক্ষ্মীপুরে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ,মাদকবিরোধী কর্মকান্ড, নৈতিকতার অবক্ষয় ও বিপদগামীতা রোধকল্পে যুবদের ভুমিকা শীর্ষক জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয় ।
মঙ্গলবার ( ৮ জুন ) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, লক্ষ্মীপুর এর আয়োজনে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের হলরুমে তিন দিন ব্যাপী এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
জনাব জসিম উদ্দিন আম্মদ খান, উপ-পরিচালক,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর,লক্ষ্মীপুর এর সভাপতিত্বে প্রধান অথিতি হিসেবে ছিলেন জনাব মোঃ শফিউজ্জামান ভূইয়া (উপ-সচিব) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লক্ষ্মীপুর,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মিমতানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল,লক্ষ্মীপুর।
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্হিত ছিলেন যুবসংগঠক জনাব শামছুল আলম লিটু,সফিকুল ইসলাম,মোঃ হোসেন চৌধুরী, রাজু আহাম্মেদ, পারভীন হালিম কাজী সাবরিনা, ইসমাইল হোসেন বাবু,রাজু আহম্মেদ সহ বিভিন্ন ট্টেডের যুব প্রশিক্ষনার্থী প্রমুখ ।
এসময় বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে উঠে আসে মাদক সেবনের বয়াবহ দূর্ভোগ চিত্রগুলো রায়পুরে মাদক সেবনের ৫০/টাকার জন্য মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা খুন,মাদকাসক্ত স্বামি কর্তৃক স্রী খুন, কুশাখালিতে মাদকাসক্ত বাবার হাতে কন্যা ধর্ষণের শিকার।নবম শ্রেনীর স্কুল পড়ুয়া হামসাদির কেন্সার আক্রান্ত বাবার মেয়ে হীরামনিকে ধর্ষন করে মেরে পেলা হলো। নেশা আর সন্ত্রাসী অপশক্তির কারনে বেড়ে চলেছে ধর্ষন। নেশা, বাজে আড্ডা,আর গ্যাং তৈরির কারনে দিন দিন সমাজে বেড়ে চলেছে ধর্ষন হত্যা,চুরি,ডাকাতি, কর্মহীন হয়ে পড়ছে হাজার হাজার যুবরা।
বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে তা হলো তরুণদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয়ের বিস্তার। দিন দিন এটি মহামারির মতো বেড়েই চলেছে। একটি দেশ ও জাতির শক্তিশালী সম্পদ হচ্ছে যুবসমাজ। আর ওদের এই অবক্ষয় একদিনে তৈরি হয়নি। এই নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার অভাব, মাদকের বিস্তার, আকাশ সংস্কৃতির বিষাক্ত ছোবল, বেকারত্ব এবং ওদের যথাপোযুক্ত মূল্যায়ন না করা।
যুবকরাই দেশ ও জাতির প্রাণ, সমাজের গৌরব। আর যখন যুবসমাজ অন্ধকারের দিকে পা বাড়ায়, তখন তা জাতির জন্য ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। তাদের অবক্ষয়ের কারণে সমাজে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। যুবকরা পৃথিবীতে শান্তি ও কল্যাণের মন্ত্র প্রচার করে, আর সেই যুবসমাজ যদি পৃথিবীতে অশান্তি ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা সমাজের জন্য বিপর্যয়েরও কারণ। বর্তমানে আমরা এক অবক্ষয়গ্রস্ত সমাজের বাসিন্দা। বোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয়, ধর্মবিমুখ, ধর্মনিরপেক্ষ, ভোগবাদী সমাজের পরিণতিই হলো অবক্ষয়।
যৌনহয়রানি, ধর্ষণ, মাদকের এ বিষাক্ত ছোবল যুবসমাজে বিপর্যয় নেমে আসে। ধর্ষণ সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ। ধর্ষণের মাধ্যমে শুধু একটি নারীকে নয়, একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ফলে সেই পরিবারটিও অকালে নিঃশেষ হয়ে যায়। এটি একটি ঘৃণিত অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েটি আতহননের পথ বেছে নেয়। এর পেছনে দায়ী নৈতিক অবক্ষয়। ধর্মবিমুখ, আকাশ সংস্কৃতি, যুবসমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।
জীবন ও সভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো মাদকাসক্তি। যুবসমাজ আশঙ্কাজনক হারে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর ব্যাপকতা উদ্বেকজনক হারে বেড়ে চলেছে। ফলে ঐশীর মতো অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের অতল গহ্বরে। বর্তমান সময়ে নীল মাদক ইয়াবা আগ্রাসনে দেশ এখন ক্ষতবিক্ষত। মাদক ব্যবহার এবং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যার অধিকাংশই তরুণ।
যে সমাজে মূল্যবোধ ধ্বংসের মুখে। বেকারত্ব, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক কুপ্রভাব, অপসংস্কৃতি, অর্থনৈতিক দৈন্য যুবসমাজকে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে। ফলে তারা সুস্থ জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঝুঁকে পড়ছে নানা অবক্ষয়ের দিকে। আমাদের যুবসমাজ বড়দের মধ্যে খুব কমই আদর্শবান মানুষ খুঁজে পাচ্ছে, যাদের থেকে তারা অনুপ্রেরণা পাবে। তারা অহরহ দেখছে রাজনীতির নামে মিথ্যাচার, সমাজ সেবার নামে সেচ্ছাচার, আদর্শের নামে প্রতারণা।
সমাজের সর্বস্তরে মূল্যবোধের এই অবক্ষয়ের শিকার আমাদের যুবসমাজ, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, শিক্ষাক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা যুবসমাজকে বিপথগামী করার ক্ষেত্রে বহুলাংশে দায়ী। অসুস্থ ছাত্র রাজনীতি নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ ছাত্ররা। আর তাই এখনি নিতে হবে সময়োপযুক্ত পদক্ষেপ, শিক্ষাঙ্গনকে করতে হবে সুশিক্ষার কারখানা। সব প্রকার মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, উৎপাদন, বিক্রয় নিষিদ্ধ করে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিকে সর্বক্ষেত্রে পরিহার করতে হবে। সব প্রকার মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে হবে।
যুবসমাজই দেশের প্রাণশক্তি, তাদের বিপথগামীতার অর্থ হলো গোটা জাতির ধ্বংস। তারাই জাতির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। তাদের উদ্ধার করতে হবে অবক্ষয়ের অতল গহ্বর থেকে। তা না হলে গোটা জাতি অবক্ষয়ের সাগরে ডুবে মরবে। মানব সভ্যতায় যুবসমাজের রয়েছে মুখ্য ভূমিকা। তাই তাদের দিকে বাড়িয়ে দিতে হবে স্নেহের হাত। ওদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। পরিচালিত করতে হবে সঠিক পথে। ওদের বোঝাতে হবে যে, ওদের দিকে চেয়ে আছে গোটা দেশ ও জাতি। তাই শুধু সরকার নয়, এই সমাজকেও বাড়িয়ে দিতে হবে ওদের দিকে সহানুভূতির হাত। তবেই রক্ষা করা যাবে যুবসমাজ আর বাঁচবে দেশ। বয়ে আনবে সমাজের জন্য কল্যাণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.