প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ৫:০৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৬, ২০২১, ১০:০৮ এ.এম
বাউফলে বাব-বেটা মিলে লঞ্চঘাট দখলে মরিয়া, ইজারাদারকে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ!

দুমকি(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি॥
জেলার বাউফলে আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা বাব-বেটা মিলে বগা লঞ্চঘাট দখলে মরিয়া হয়ে ওঠেছে।
বাবা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার ও ছেলে বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান তাদের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনীর ত্রাস সৃষ্টি করে বগা লঞ্চঘাট দখলের পায়তাড়া চালাচ্ছেন। সম্প্রতি বগা লঞ্চঘাটের ইজারাদারকে ঘাট ছাড়তে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার ও বগা ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান (বাবা-ছেলে)সহ ৪জনকে আসামী করে বাউফল ও দুমকি থানায় পৃথক পৃথক দু’টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
অভিযোগ সূত্র জানায়, চলতি বছর বগা লঞ্চঘাটের ইজারার দায়িত্ব পান বগা ইউনিয়নের বানাজোড়া গ্রামের আজাহার আলী আকনের ছেলে শাহাবুদ্দিন আকন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ১ জুলাই তাকে বগা লঞ্চঘাটের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়। ২ জুলাই সকাল ১০টায় মোতালেব হাওলাদার নিজেই বগাঘাটে এসে ইজারাদারদের ঘাট ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় প্রাণে মেরে লাশ গুমের হুমকি দেন। ওইদিন রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ডেকে নিয়ে ইজারাদার শাহাবুদ্দিন আকন ও তার শ্রমিকদের খুন জখমের হুমকি দেয়। এ সময় শাহাবুদ্দিন আকনের বড় ভাই জালাল আকনের মুঠোফোনে কল দিয়ে আ”লীগ নেতা মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘তোমার ভাইকে ঘাট ছেড়ে দিতে বল না হয় হাসপাতালে বেড রেডি কর’।
এ বিষয়ে শাহাবুদ্দিন আকন শনিবার (৩ জুলাই) আবদুল মোতালেব হাওলাদার ও তার ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসানসহ ৪জনকে আসামী করে বাউফল থানায় ও অপর অংশের ইজারাদার আবদুল মালেক মীর রবিবার (৪জুলাই) দুমকি থানায় পৃথক দু’টি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, মোতালেব হাওলাদার(৬২), মাহামুদ হাসান(৩২) হাসিবুর রহমান (৩০),আলী আশরাফ মিলন(৪০), মিলন সিকদার (৩০) দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বগা লঞ্চঘাট এলাকায় এসে তাদেরকে (ইজারাদার)ঘাট ছেড়ে চলে যেতে বলে অন্যথায় তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় । এতে শাহাবুদ্দিন আকন ও মো. আবদুল মালেক মীর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ইজারাদার শাহাবুদ্দিন আকন বলেন, অভিযুক্তরা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলীয় প্রভাব, পেশিশক্তি ও অবৈধ অর্থবিত্তের প্রভাবে প্রশাসন তাদের হাতে মুঠোয় রেখে সবক্ষেত্রেই দখলদারিত্ব করে বেড়াচ্ছেন ।
অবশ্য হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে বাউফল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, এসব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। ইজারাদারদের নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে কোন্দলের দায় তার ওপর চাপানের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
ইজারাদার শাহাবুদ্দিন আকনের অভিযোগ প্রশ্নে বাউফল থানার ওসি আল মামুন জানান, লিখিত অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে তদন্ত করা হচ্ছে।
দুমকি থানার ওসি মো. মেহদী হাসান বলেন, আ. মালেক মীরের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.