খোরশেদ আলম শিকদার, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পুলিশ ৮ ঘন্টার মধ্যে হত্যা মামলায় সৎ মা নুর জাহান আক্তার নুপুরকে গ্রেপ্তার ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়।
৯ আগস্ট সোমবার বিকাল ৪টায় সোনাইমুড়ী থানায় প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে নোয়াখালী পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম পিপিএম সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, মামলার বাদী উপজেলার দক্ষিণ আবিরপাড়া আজগর বেপারী বাড়ীর জাফর আহমেদের ছেলে ওমর ফারুক তার ২য় স্ত্রী নুর জাহান আক্তার নুপুর (২৩) এর বিরুদ্ধে তার ১ম স্ত্রীর গর্ভের সন্তান আব্দুল্লাহ আল নাফিজ (৮) কে ৭ আগস্ট বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে যে কোন সময় সুকৌশলে হত্যা করেছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এস.আই বাধন চন্দ্র দাস তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জিসান আহমেদকে দেয়া হলে তিনি পরদিন ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ী হইতে হত্যাকারী সৎ মা নুর জাহান আক্তার নুপুরকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃত নুর জাহান আক্তার নুপুরকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে ভিকটিম আব্দুল্লাহ আল নাফিজকে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার আরো জানান, আসামী নুপুর বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও প্রদান করেছে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, মামলার বাদী ওমর ফারুক ১ম স্ত্রীর সাথে ২০১৮ইং সালে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পর ওমর ফারুক ছেলে নাফিজকে নিজের কাছে রেখে দেয়। এর কয়েকদিন পর ওমর ফারুক নুপুরকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় ২য় স্ত্রীর কাছে ছেলের কথা গোপন রাখে। নুপুর স্বামীর বাড়ীতে এসে ১ম সংসারের ছেলে নাফিজকে দেখে সহ্য করতে না পেরে তাকে কারণে অকারণে মারপিট করত। এ অবস্থায় বাদী ফারুক তার ছেলে নাফিজকে স্থানীয় হানারবাগ এতিমখানায় রেখে পড়া-লেখা করান। গত ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে বাড়ীতে আসলে সৎ মা নুর জাহান আক্তার নুপুর ছেলেকে দেখে গালমন্দসহ শারীরিক নির্যাতন করে। ৭ আগস্ট দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর নাফিজ ঘরের অন্য একটি রুমে ঘুমিয়ে পড়ে। বিকেল অনুমান ৩টার দিকে ফারুক তার ছেলেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বিবাদীর সাথে ঘরে থাকার জন্য বলে পুকুরে মাছের খাবার দিতে যায়। এই সুযোগে পাষন্ড সৎ মা ছেলেকে মারধর করে জোরপূর্বক ভিক্সল পান করিয়ে পরবর্তীতে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে বলে জানা যায়। ফারুক রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ীতে এসে ছেলেকে ডাকাডাকি করলে তার কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পায় ছেলে আব্দুল্লাহ আল নাফিজ মৃত অবস্থায় খাটের উপর পড়ে আছে। এরপরই তিনি থানা পুলিশে খবর দেয় ও নিজে বাদী হয়ে ২য় স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এছাড়াও পুলিশ সুপার আরো জানান, চলতি মাসে সোনাইমুড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়ের করা ২ মামলায় ৫ জন আসামী গ্রেপ্তার ও পেশাদার ২ মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ আটক করতে সক্ষম হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.