কোম্পানিগঞ্জে আওয়ামী লীগ সভাপতি’র বাসায় ককটেল বিস্ফোরণ,ভাংচুর

খোরশেদ আলম শিকদার, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের বাসায় ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

শনিবার (৯অক্টোবর) দিবাগত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের খিজির হায়াত মঞ্জিলে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত জানান, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার তার বিরোধ চলে আসছিল। ঐ বিরোধের জের ধরে মির্জা কাদেরের নির্দেশে তার কয়েকজন অনুসারী এই ককটেল হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলায় কাঁচের কয়েকটি জানালা ভেঙ্গে গেছে বলে তিনি জানান। একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা বাসার ভিতরে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি।

খিজির হায়াত খানের সহধর্মিণী ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভিন রুনু দাবি করেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাদের মির্জার ২০/২৫ জন অনুসারী সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে আমাদের বাসার সামনের সড়কে এসে দাঁড়ায়। এরপর তারা আমাদের বাসার সীমানায় প্রবেশ করে বাসা লক্ষ্য করে ককটেল ছুঁড়তে থাকে। এ সময় তারা বিকট শব্দে ৬টির মত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ হামলার কিছু দৃশ্য আমাদের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়। যা আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছি।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও চিত্রতে দেখা যায, ৫/৬ জন যুবক মুখে মুখোশ বেঁধে দেশীয় অস্ত্র হাতে খিজির হায়াত খানের বাসার একেবারে কাছাকাছি চলে আসে। এরপর তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুনরায় রাস্তার দিকে চলে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বসুরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনোয়ার হোসেন চৌধুরী শিমুলের (৪৩) মাথা পাটিয়ে দেয় একই বাড়ির এক যুবক। কাদের মির্জার অনুসারীরা অভিযোগ করে কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামীলীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে বিবাদমান দ্বন্দ্বের জেরে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ নোয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য আকরাম উদ্দিন সবুজের ছেলে মঞ্জিল তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে এ ঘটনার জের ধরে রাত পৌনে ১০টার দিকে কাদের মির্জার অনুসারীরা আকরাম উদ্দিন সবুজের বসুরহাট নতুন বাস ষ্টান্ডে অবস্থিত ড্রীম লাইন বাস কাউন্টারে অগ্নি সংযোগে করে। স্থানীয়দের তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিক আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে কাদের মির্জার অনুসারীরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের বাসায় ককটেল হামলা চালায়।