হিলি প্রতিনিধি:
কালবৈশাখী ঝড়ে দিনাজপুরের হিলিতে ঘরবাড়ি,বিদ্যুতের খুটি,গাছপালা ও মাঠের ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বেগে ঝড় শুরু হলে কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে পড়ে।ঝড়ে মাঠে থাকা অধিকাংশ জমির ধান হেলে পড়েছে ও পানিতে ডুবে গেছে,ভুট্টা,মরিচ ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে ও তার ছিঁড়ে বন্ধ হয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন। বিদ্যুৎ বিভাগ গাছ সরিয়ে ও ছেঁড়া তার মেরামতের কাজ চলছে। এ অবস্থায় ক্ষতি কমাতে কৃষি অফিস দ্রুত এসব ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন,আমি চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে শম্পাকাটারি ধান লাগিয়েছিলাম।এই ধান পাকতে অন্য ধানের চেয়ে একটু বেশি সময় লাগে।ইতোমধ্যে জমির ধান সব পেকে গেছে।কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে ধান ঘরে তোলা হয়নি। এরমধ্যে গতকাল রাতে হঠাৎ ঝড় বৃষ্টিতে আমার জমির সব ধান হেলে পড়েছে ও পানিতে ডুবে গেছে। আমার মতো আরও অনেকের একই অবস্থা। এতে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেলো।
এদিকে হাকিমমপুর পৌর শহরের ধরন্দা ফকিরপাড়া গ্রামের আমির হোসেনের মাটির ঘরের টিনের চালাটি উড়িয়ে নিয়ে যায়।ঘরটি মেরামত করার মত কোন টাকা পয়সা নেই।তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।তিনি বলেন,আমি একজন লেবার শ্রমিক আমার আয় দিয়ে কোনমতে সংসার চালায়।একদিকে আমার স্ত্রীও অসুস্থ্য অন্যদিকে কালকে রাতের ঝড়ে ঘরের টিনের চালাটি উড়িয়ে আঙনায় ফেলে দেয়।আমির হোসেন সর্বশ হারিয়ে নিঃস্ব এখন।
স্থানীয়রা বলেন,ওই পরিবারটির ঘরটি ঠিক না করলে তাদের খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।অসহায় পরিবারটির পাশে দাড়াতে অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.মমতাজ সুলতানা বলেন,উপজেলার ৮৫ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ পর্যায়ে।অল্প কিছু জমির ধান কাটা বাকি ছিল।তবে গতকাল রাতের ঝড় ও বৃষ্টিতে জমির ধান হেলে পড়েছে।যেহেতু ধান সব কাটার উপযোগী হয়ে পড়েছে,তাই হেলে পড়া এসব ধান দ্রুত কেটে নিলে ক্ষতি খুব বেশি হওয়ার কথা না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.