বিশেষ প্রতিবেদক :
বরিশালের মুলাদী উপজেলা থেকে বদলি হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় যোগদান করবেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এলজিইডির আলোচিত উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক। স্থানীয়দের ভাষায় ‘কার্পেটিং কিং’ হিসেবে পরিচিত এই প্রকৌশলীর বদলি ঘিরে লক্ষ্মীপুরের সচেতন মহল ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ-ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কারণ মুলাদীতে তাঁর দায়িত্বকালে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ ওঠে, যা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়নি; বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
গত ১৬ এপ্রিল, মুলাদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর পাইতিখোলা খেয়াঘাট থেকে কুতুবপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৪০০ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজে নিম্নমানের ইট, পর্যাপ্ত বিটুমিন ও প্রয়োজনীয় প্রাইম কোট ছাড়াই পিচ ঢালাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঢালাইয়ের পর সড়কের পিচ এতটা নরম ছিল যে শিশুদের হাতের টানেই তা উঠে যায়। বিষয়টি স্থানীয়রা উপজেলা প্রকৌশলীকে জানালেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল সিকদারসহ কয়েকজন সংবাদকর্মীকে বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি জানানোর পরও কাজ বন্ধ বা তদন্তের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ ঘটনা নিয়ে ইত্তেফাক, দৈনিক বরিশালের চোখ, দেশের পত্রসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত সংবাদে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, মো. জিয়াউল হক ওই সড়কের কাজকে ‘সন্তোষজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কিছু লোক কাজের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ এছাড়া বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তবে এ প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর সাম্প্রতিক আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২ আগস্ট মুলাদীর চরকালেখান ইউনিয়নের ষোলঘর থেকে ব্যাপারীর হাট সড়কের সংস্কার ও আরসিসি ঢালাই কাজেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। ওই সময়েও জিয়াউল হক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, প্রকল্পের প্রাক্কলন যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসেনি।
এমন পরিস্থিতিতে মুলাদীতে আলোচিত ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে পরিচিত জিয়াউল হক লক্ষ্মীপুর সদরে যোগদান করলে সড়ক নির্মাণে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হবে কি না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, মুলাদীতে যেখানে ৪ কোটি টাকার সড়কের পিচ শিশুদের হাতের টানেই উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তিনি লক্ষ্মীপুরে এলে সড়কের মান নিয়ে নিশ্চয়তা কোথায়?
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা শুনেছি মুলাদীর প্রকৌশলী এখানে আসছেন। সেখানে সড়কের অবস্থা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা আমাদের উদ্বিগ্ন করছে। আমরা চাই, যোগদানের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।’
সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু বদলি নয়—এলজিইডির প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় জনগণ চান, নতুন প্রকৌশলী যোগদান করলে তার কাজের মান নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হোক এবং কোনো অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে মো. জিয়াউল হকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন পেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
মুলাদীর আলোচিত ও বিতর্কিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ। তবে লক্ষ্মীপুরের স্থানীয়দের শঙ্কা হলো—যদি অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে ভোগান্তিতে পড়বেন সাধারণ মানুষ। তাই যোগদানের আগেই স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: সফিকুল ইসলাম
লিটন মঞ্জিল, ভোলা-বরিশাল সড়ক, লক্ষ্মীপুর।
ফোন: +৮৮ ০১৭১২ ৯৭ ৫৬ ০৫,
ই-মেইল: nagorikkagoj@gmail.com
Copyright © 2026 Nagorik Kagoj. All rights reserved.