ঈদ সামগ্রী না দেওয়ায় রামগঞ্জে গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় ঈদেরদিন বাপের বাড়ির থেকে সেমাই চিনি, নতুন জামা কাপড় ও প্রয়োজনীয় ঈদ সামগ্রী না দেওয়ায় আসমা আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন।
শনিবার(৮জুন) বিকেলে উপজেলার ১০নং ভাটরা ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের মসজিদ বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে । খবর পেয়ে আসমার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় আসমাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সৃষ্ট ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯নং ভোলাকোট ইউনিয়নের সাহারপাড়া গ্রামের ফকির বাড়ির মৃত আবুল বাশারের মেয়ে আসমা আক্তারের সাথে ২০১১ ইং সালে পার্শ্ববর্তী জয়দেবপুর গ্রামের মসজিদ বাড়ি শাহাব উদ্ধিনের ছেলে কামাল হোসেনের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়েতে কোন প্রকার লেনদেনের কথা না থাকলেও স্বামী কামাল হোসেন, শশুর শাহাবুদ্দিন, দেবর মোঃ জামাল হোসেন ও শাশুড়ী নদনসহ পরিবারের সকলে মিলে আসমার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা, ফার্নিচারের জন্য চাপ সৃষ্টিসহ বহুবার বেদম মারধরও করে। মেয়ের সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে গৃহবধু আসমার পরিবার যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছে। এর পরেও সর্বশেষ ঈদুল ফিতরের পরদিন বৃহস্পতিবার বাপের বাড়ির থেকে সেমাই চিনি ও জামা কাপড় না দেওয়ায় আসমার স্বামী কামাল হোসেন, শশুর শাহাবুদ্দিন ও দেবর জামাল হোসেন একত্রিত হয়ে গৃহবধু আসমাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ ব্যাপারে আসমার স্বামী কামাল হোসেনের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধু আসমা আক্তার জানান, আমার বাপের বাড়ি থেকে এ পর্যন্ত অনেক কিছু দিয়েছে। তবুও এদের কোন চাহিদার শেষ হচ্ছে না। সর্বশেষ ঈদের সেমাই চিনি না দেওয়ার কারনে স্বামী সহ শশুর বাড়ির লোকজন আমার উপর এ নির্যাতন চালিয়ে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
