লালমনিরহাটে এক নারী পোষাক কর্মীর লাশ নদী থেকে উদ্ধার,জানাজা শেষে দাফন

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি উপজেলার গোবর্ধনে তিস্তা নদী থেকে এক নারী পোষাক কর্মীর লাশ উদ্ধার।মৃত পোষাক কর্মীর পরিচয় নিশ্চিত করে লাশ দাফন করা হয়েছে।
সোমবার ২৫শে মে সোমবারে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি গুচ্ছগ্রামে উদ্ধারকৃত নারী পোষাক কর্মীর লাশ দাফন করা হয়েছে। আদিতমারি উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন গোবর্ধন এলাকায় তিস্তা নদী থেকে গত শুক্রবার অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে আদিতমারি থানা পুলিশ। লাশের গায়ে সরকারি ব্যাগ থাকায় পাটগ্রাম থানা পুলিশের সহযোগিতায় লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন মৃত নারী পোষাক কর্মীর পিতা গোলাম মোস্তফা।
আদিতমারি থানা পুলিশ জানায় ,গাজীপুর জেলার পোষাক কারখানায় কর্মরত নারী পোষাক কর্মী মৌসুমী আক্তার(২৩) গত ২১মে অসুস্থতা নিয়ে ট্রাক যোগে নিজ বাড়ী পাটগ্রাম উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।রংপুর সাতমাথায় এসে ঐ নারী পোষাক কর্মী কে মৃত অবস্থায় দেখে, ট্রাক চালক লাশটি তাজহাট এলাকায় রেখে পালিয়ে যায়।তাজ হাট থানা পুলিশ লাশটি অজ্ঞাত হওয়ায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠান। ২২মে শুক্রবার মৃত গার্মেন্টস কর্মীর পিতা গোলাম মোস্তফা তার মেয়েকে শনাক্ত করেন।
মৃত পোষাক কর্মীর পিতা গোলাম মোস্তফা তার নিজ গ্রামে লাশ দাফনের অনুমতি চেয়ে ঐদিন, পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাইদ নিশাত কে ফোনে করেন, চেয়ারম্যান নিশাত লাশ বুড়িমারিতে দাফনের অনুমতি না দিয়ে গোলাম মোস্তফাকে মোবাইলে হুমকি দিয়ে বলেন,মৃত পোষাক কর্মীর লাশ নিয়ে বুড়িমারি আসলে বাড়িঘর সহ লাশবাহী গাড়ী আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে ।তাই নিরুপায় হয়ে গোলাম মোস্তফা তার মেয়ের লাশ অন্যত্র দাফনের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজের লাশবাহী গাড়ী চালক কে ৫০০০/টাকা দেন।গাড়ীর চালক মৃত পোষাক কর্মীর লাশ তিস্তা নদীতে ভাঁসিয়ে দেবার সন্দেহ করা হয়।মৃত নারীর লাশ আদিতমারি উপজেলার মহিষখোচা গোবর্ধনে তিস্তা নদী থেকে ২৪মে রবিবার অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে আদিতমারি পুলিশ উদ্ধার করে,সোমবার ঈদের নামাজ শেষে লাশ দাফনের প্রস্তুতি কালে, মৃত নারী পোষাক কর্মীর পিতা গোলাম মোস্তফা লাশটি তার মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।
পাটগ্রাম থানা পুলিশের সহযোগিতায় সোমবার মৃত নারী পোষাক কর্মীর লাশ জানাজা শেষে গোলাম মোস্তফার গ্রামে বুড়িমারি ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে দাফন করা হয়।
বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নিশাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে,তিনি লাশ দাফনে বাঁধা দেবার কথা অস্বীকার করে বলেন।নারী পোশাক কর্মীর মৃত্যুর কারন করোনা সন্দেহে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন বলে চেয়ারম্যান দাবী করেন।
