তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার চরাঞ্চল প্লাবিত

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি এবং উজানে পাহারি ঢলে, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়, লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা হাতিবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের ডালিয়া পয়েন্টে, শনিবার ২০ জুন তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ মাপা হয় (৫২দশমিক ৭৮সেন্টিমিটার),যা স্বাভাবিক প্রবাহ ৫২দশমিক ৬০সেন্টিমিটার এর ১৮ সেন্টিমিটার বেশী ।বিপদ সীমার ১৮সেন্টিমিটার বেশী প্রবাহ হওয়ায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের সকল গেট খুলে দেওয়া হয়।এতে জেলার পাঁচটি উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়।ফলে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম,হাতিবান্ধা উপজেলার সিন্ধূর্না, গড্ডিমারি,সিংঙিমারি, কালিগঞ্জ উপজেলার ভোটমারি, আদিতমারি উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার রাজপুর,খুনিয়াগাছ,গোকুন্ডা ইউনিয়নের পাঁচ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।ফসলের মাঠ ডুবে যাওয়ায় ভুট্টা,বাদাম, শাক সব্জির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে বসবাসকারী গ্রামবাসী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম বন্যার আশংকা করছেন।তিস্তা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রৌকশলী রবিউল ইসলাম জানান কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে,ইতিমধ্যে তা কমতে শুরু করেছে,আজ কালের মধ্যে পানি কমে যাবে ফলে আপাতত বন্যার আশংকা নেই।
খরশ্রোতা তিস্তা নদীর পানি উজানে পাহাড় বেয়ে নামার সময়, প্রচুর পরিমান পলিমাটি টেনে নিয়ে আসে,ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের ডালিয়া পয়েন্টে বিগত কয়েক বছরে পলির আধার জমে চর জেগে উঠেছে।ফলে শুকনো মৌসুমে নদী শুকিয়ে খাঁ খাঁ করে, আবার বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে নদীর দুকূল ছাপিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় খুব সহজে।এতে নদীর দুপাশে প্রতিবছর বন্যা এবং অব্যাহত ভাঙনে ফসল,বসতি,জানমাল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
দেশের সর্ববৃহত্ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় কৃষিকাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার জন্য নির্মিত হয়েছিল।কিন্তূ তিস্তা নদীর পানি ভারত প্রত্যাহার করায় বৃহত এই সেচ প্রকল্প এখন অকার্যকর হতে চলেছে।কূটনৈতিক পর্যায়ে বারবার তিস্তা নদীর পানি ন্যায্য হিস্যার দাবীতে সরকার প্রচেষ্টা চালালেও ভারত বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করেছে,ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের মুখ আলো দেখছে না।
দেশের শষ্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরাঞ্চলের কৃষি চাষাবাদ ঠিক রাখতে সরকার কে বিকল্প পথ অনুসরণ করতে বিশেষজ্ঞ গন পরামর্শ দিয়েছেন।তিস্তা নদীর ১৫২ কিঃমিঃ খনন করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীর দুইপার বাঁধ দিয়ে কৃষি জমি রক্ষা করার জন্য।এতে বর্ষা মৌসুমে পানি ধরে রেখে শুকনো মৌসুমে সেচ কাজে পানি ব্যাবহার করলে এই অঞ্চলে কৃষি চাষাবাদ অব্যাহত থাকবে সেই সাথে উত্তরাঞ্চল মরুভূমির হাত থেকে বাঁচবে।
