একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে ধর্ষণের শিকার কিশোরী

মোঃমাসুদ পারভেজ বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।।
অবুঝ শিশু এঞ্জেল উপাসনা, ডাক নাম পাখি চলতি বছরে কলেজ পড়ায়া ছাত্রি পাপিয়া মন্ডলের কোল জুড়ে আসে এই রংঙ্গিন প্রথীবিতে, কিন্তু আজও এই অবুজ শিশু জানেনা তার পিতৃ পরিচয়। এমন ঘটনা ঘটেছে মোংলা উপজেলা চাঁদপাই ইউনিয়নে মাল গাজী মিশনবাড়ি গ্রামে।
এমন সংবাদের অন্তপান্তের সত্যতার সুত্র ধরে আমরা গেলাম সেই অবুজ শিশুর বাড়িতে। একে একে বেরিয়ে আসে অজানা চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
সেখানে গিয়ে যানা জায়,,,,
বিয়ের প্রলোভনে মাসের পর মাস ধর্ষনের ফলে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে ধর্ষণের শিকার কিশোরী পাপিয়া । কিশোরী সন্তানের পিতৃি পরিচয় পেতে সমাজপতি ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় বাবুল মন্ডলের মেয়ে পাপিয়া মন্ডল। তবে কিশোরীর দাবী অনাগত এ সন্তানের পিতা একই গ্রামের বাশতীন সরকারের ছেলে পার্থ সরকার।
এলাকাবাসী বলছে, কে হবে এই নবাগত সন্তানের বাবা? কে এর ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিবে এমন সামাজিক একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন ধর্ষিতা কিশোরী ও তার পরিবার। তবে ধর্ষক পলাতক থাকার কারনে এবং এলাকার প্রভাবশালীদের চাপের মুখে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও সন্তানের পিতৃি পরিচয়ের বিচার পাচ্ছেনা অসহায় ওই কিশোরী এমন অভিযোগ পাপিয়া মন্ডলের।
নির্যাতিতা ওই কিশোরী ও এলাকাবাসী জানায়, মোংলা উপজেলার চাদঁপাই ইউনিয়নের মালগাজী গ্রামের পার্থ সরকারের সাথে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই স্কুলে যাওয়ার পথে পরিচয় হয়। এই থেকে পার্থ সরকার কারনে অকারনে প্রায়ই আসা যাওয়া করতো পাপিয়ার বাড়ীতে। ২০১৯ সালে থার্টি ফাষ্ট নাইট রাতে পাপিয়াকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বার ধর্ষন করেন পার্থ সরকার। তাকে বিয়ে করবে বলে প্রলোভন দিয়ে এ ধর্ষনের কথা কাউকে কিছু না বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে পার্থ। পার্থ’র পরিবার কিশোরী পাপিয়াকে এই মুহুর্তে মেনে নেবেনা বলে তাকে অন্যাত্র গিয়ে থাকতে বলেন ধর্ষক পার্থ সরকার। কিশোরী পাপিয়ার এক বান্ধবীর সহায়তায় তারা বিয়ে করে সংসার করবে বলে আশ্বাস্ত করে ঢাকায় যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন পার্থ।
তার কথামতো ২০১৯ সালে ১৩ অক্টোবর ঢাকা গিয়ে এক বান্ধবীর বাসায় ওঠেন পাপিয়া। কিছুদিন ঢাকায় থাকার পর সাময়িক অসুস্থ হয়ে পরে কিশোরী পাপিয়া। আশ্রয় দেয়া বান্ধবীর সহায়তায় শারীরীক উন্নতির জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায় কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্তা।
এমন খবর পেয়ে লোক লজ্জার ভয়ে পরিবারের কাউকে কিছু না বলে ধর্ষক পার্থ সরকারকে দ্রুত ঢাকায় আসতে বলে এবং বিয়ের জন্য চাপ দেয় পাপিয়া।
পাপিয়া অন্তঃসত্তা খবর পেয়ে ধর্ষক পার্থ সরকার ৩০ নভেম্বর ঢাকায় আসবে বলে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় এবং কিশোরীর সাথে ফোনে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে। বিষয়টি মার্মান্তিক মনে করে বান্ধবী অঞ্জলী সব কিছুই পাপিয়ার বাবা-মাকে জানালে তারা পার্থ’র পরিবারের সকলকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পার্থের পরিবার সব কিছুই অস্বীকার করে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি মেম্বারের সহায়তায় কিশোরীকে অন্তঃসত্তা বাচ্চাসহ প্রাননাশের হুমকি দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী ঢাকার গাজীপুর কাশেমপুরের জিয়ানী এলাকার জিয়া মেডিকেলে সিজারের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের মা হন পাপিয়া মন্ডল, নাম দেয়া হয় পাখি।
কিশোরী আরো বলেন,‘ সেদিনও পার্থকে বার বার ফোনের মাধ্যমে ঢাকায় আনার জন্য চেষ্টা করেছি কিন্ত আমাকে সে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিছে এবং অনাগত সন্তানকে অন্যাত্র অনাত আশ্রমে ফেলে দেয়ার জন্য বলেছে পার্থ। প্রভাবশালী ওই জনপ্রতিনিধি পার্থের পরিবারের সাথে ঘনিষ্টতা থাকার কারনে এবং একটি রাজনৈতিক মহলের দাপটে আমাদের এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে চলছে।
পাপিয়া বলেন, না পেলাম স্ত্রীর মর্যদা, তারপর হলাম সন্তানের মা। পার্থর কারনে এলাকায় বের হতে পারছিনা, আমার পরিবারের কাউকে দেখলেই মানুষ বিভিন্ন রকম বাজে কথা বলে। জীবনে বেচে থাকার কোন পথ নেই আমার। আমি আর কিছু চাই না, আমার অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই, এ বলে চিৎকার দিয়ে কেঁদে ফেলে তরুণী পাপিয়া। তবে পাপিয়ার এমন সকল অভিযোগের ভিত্তিতে পার্থ সরকারের বাড়ি গেলে কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়
চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন,‘আমরা স্থানীয়ভাবে ঘটনার পর থেকেই ছেলে মেয়কে বিয়ের জন্য বলেছি। ছেলে পলাতক রয়েছে এবং তার মা মারিয়া সরকার কাউকেই তোয়াক্কা করছেনা না। যার কারনে কোন ধরণের মিমাংসা করানো সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে না মিটলে আমরা কিশোরীকে সহায়তা করবো, আদালতে মামলার মাধ্যমে ডিএনএ’র রিপোর্টে সন্তানটির পিতৃ পরিচয় পাওয়া যাবে।
তবে আদৌকি পিতৃি পরিচয় পাবে এই অবুজ শিশু এঞ্জেল উপাসনা, এমন হতাস আর উদকন্ঠায় দিন পার করছে শিশুটির পরিবার।
