বুড়িমারি স্থল বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি রপ্তানি শুরু

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারি স্থল বন্দর দিয়ে পুনরায় ভারত,বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হল। উভয় দেশের ব্যাবসায়ী প্রতিনিধি ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রম পূনরায় শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকাল দশটায় লালমনির হাট জেলার বুড়িমারি স্থল বন্দর সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায়, ভারত ও বাংলাদেশের ব্যাবসায়ী প্রতিনিধি, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ভারতীয় পন্য বাহী ট্রাক বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের পন্য বাহী ট্রাক চ্যাংড়াবান্ধা বন্দরে প্রবেশ করে।

ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা জিরো পয়েন্ট এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবি ঘোষ,সাংসদ বিনয় রায়, কাষ্টমস আধিকারিক, চ্যাংড়াবান্ধা বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার, চ্যাংড়াবান্ধা আমদানি ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন সভাপতি বিমল গুরম ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশের পক্ষে বুড়িমারি স্থল বন্দর আমদানি রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন সভাপতি ও পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল,বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাইদ নিশাত,৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বুড়িমারি কোম্পানি কমান্ডার, বুড়িমারি স্থল বন্দরের কাষ্টমস সহকারি কমিশনার সোমেন কান্তি চাকমা সহ ব্যাবসায়ী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ব্যাবসায়ী প্রতিনিধি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সামনে ভারত থেকে কয়লা নিয়ে ভারতীয় ট্রাক বুড়িমারি স্থল বন্দরে প্রবেশ করে,অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পন্য গার্মেন্টস ঝুট নিয়ে বাংলাদেশি ট্রাক ভারতে প্রবেশ করে।

করোনা মহামারী সংকটের কারনে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ও ভুটানের সীমান্ত বানিজ্য বুড়িমারি স্থল বন্দর দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৭৮দিন পর ১০জুন বুড়িমারি ও চ্যাংড়াবান্ধা বন্দরে আমদানি রপ্তানি চালু হলে, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা বন্দরের স্থানীয়দের বাঁধার মুখে বাংলাদেশী পন্য বাহী ট্রাক ভারতে ঢুকতে বাঁধা দেওয়া হয়।ফলে উভয় দেশের আমদানী রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

উভয় দেশের ব্যাবসায়ীদের দাবীর মুখে বাংলাদেশ ও ভারত কূটনৈতিক পর্যায়ে চিঠি চালাচালি হলে, গতকাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে ভারত বাংলাদেশ বানিজ্য পুনরায় চালু করা হলো।

বুড়িমারি বন্দর দিয়ে নেপাল,ভুটান,ও ভারতের পন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং বাংলাদেশের পন্য ভারত, ভুটান,ও নেপালে রপ্তানি হয়ে থাকে।দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় পাথর ভাঙা কাজে নিয়োজিত,লোড আনলোড, সিএন্ডএফ এজেন্টে কর্মরত দশ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে।দীর্ঘদিন পর বুড়িমারি বন্দর চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।