লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৩৮সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
লালমনিরহাট জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা ও ধরলার নদীর পানি পূনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ৩৮সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।তিস্তা ও ধরলা নদীর দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ নতুন করে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার(১০ জুলাই) বিকেলে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ৮৮ সেন্টিমিটার মাপা হয়।স্বাভাবিক প্রবাহের চেয়ে ২৮সেন্টিমিটার বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো।
রাতে নদীর পানি ভয়ানক ভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে,রাত ১২টার দিকে তিস্তা নদীর পানি ৫২দশমিক ৯৮সেন্টিমিটার মাপা হয়।যা বিপদ সীমার ৩৮সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবার রেকর্ড করা হয়।
এতে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ছিটমহল,বড়খাতা ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারি,সিন্ধূর্না, সিংঙিমারি ইউনিয়ন,কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীর দুপারে চরাঞ্চল, আদিতমারি উপজেলার মহিষখোচা,সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ, গোকুন্ডা ইউনিয়ন নতুন করে প্লাবিত হবার খবর পাওয়া গিয়েছে।তিস্তা নদীর পানি রাতে ভয়াবহ ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর দুপারের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
এই রিপোর্ট লেখার সময় হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বাইপাস সড়কের উপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছিল, শত শত বাড়ি ঘর ,ফসলি জমি তলিয়ে যাবার নতুন খবর পাওয়া যাচ্ছিলো।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।এতে জেলার বিশটি ইউনিয়নে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে।এতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয়।কিন্তূ গত কয়েক দিনে নদীর পানি কমে আসলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করে ।
জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই টানা বৃষ্টি এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে পুনরায় নতুন করে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।ইতিমধ্যে রাত্রে পানি বিপদ সীমার ৩৮সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবার নতুন রেকর্ড করা হয়। তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়েছে।পানি বন্দি হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ।তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকায় পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যারেজের সকল জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, পানির চাপ সামলাতে বাইপাস বাঁধের উপর দিয়ে পানি নামার ব্যাবস্থা করেছে কতৃপক্ষ।
তিস্তা সেচ প্রকল্পের প্রৌকশলী রবিউল ইসলাম জানান নতুন করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায়, পানির চাপ সামলাতে তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকায় সেচ খাল গুলোর সকল জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারনে নতুন করে নদীর পানি বিপদ সীমার ৩৮সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে,যা এ বছর তিস্তা নদীর পানি প্রবাহের নতুন রেকর্ড করা হলো। দুএকদিনের মধ্যে পানির চাপ না কমলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে তিস্তার দুপারে ফসলি জমি,বসত বাড়ি,প্লাবিত হয়েছে।চরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি,শুকনো খাবার,গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।জেলার পঞ্চাশ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়বে,হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে লালমনিরহাট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবার সম্ভবনা রয়েছে।
