চাকরির প্রলোভনে দুবাইয়ে সুন্দরী তরুণীদের পাচার, গ্রেফতার ৩

অনলাইন ডেস্ক।।
দুবাইয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অল্পবয়সী সুন্দরী তরুণীদের পাচার করে যৌনকর্মে বাধ্য করা হতো এমন একটি চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারীদের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে তাদের অগ্রিম টাকা দিয়ে দুবাইয়ে নিয়ে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো।
রবিবার (১২ জুলাই) বেলা পৌনে ১২ টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ। তবে তাদের কোথা থেকে ধরা হয় সে বিষয়ে কিছু জানায়নি সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আজম খান ও তার দুই সহযোগী আল আমিন হোসেন ডায়মন্ড এবং আনোয়ার হোসেন ময়না।
গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী মো. আজম খান এই চক্রের হোতা। তিনি দুবাইয়ের ফরচুন পারল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়্যাল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্র্যান্ড এবং হোটেল সিটি টাওয়ারের মালিক।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আজম খানের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে। তার বাবা দুবাইয়ে থাকতেন। তিনি ১৯৯৬ সালে দুবাইয়ে চলে যান। দুবাইয়ে তার চারটি তারকাযুক্ত হোটেলের অংশীদার রয়েছে।
সম্প্রতি আজম খানের ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানায় দুবাই পুলিশ। দেশটি তার পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়। এরপর একটি এক্সিট পাস নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন আজম। তারপর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
সিআইডি জানায়, আজম খান এই নারী পাচার চক্রের মূল হোতা। এসব হোটেলগুলোতে কাজের নামে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাচারকৃত অল্প বয়সী সুন্দরী তরুণীদের যৌনকাজে বাধ্য করত। আজম খানের সহযোগী আল আমিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড সহ আরো অনেক ড্যান্স প্রশিক্ষন দিয়ে তরুণীদের বিদেশে মোটা অংকের বেতনের প্রভোলন দেখাতো। পরে চাহিদামতো এসব তরুণীদের তারা দুবাইয়ে পাচারের ব্যবস্থা করত। সেখানে পৌঁছানোর পর আজমখানের মালিকানাধীন ড্যান্স ক্লাবগুলোতে আটক রেখে চলত যৌন নির্যাতন ও নিপিড়ন। তাদেরকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দেয়ার কথা বললেও তাদেরকে কোন টাকা দেওয়া হতো না।
এসব ঘটনায় আসামিদের জড়িত থাকার সকল অডিও ক্লিপ সংগ্রহ করেছে সিআইডি। আজম খান গত আট বছর ধরে প্রায় এক হাজার তরুণীদেরকে দুবাইয়ে পাচার করেছে।
মানবপাচারকারী এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে ২ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা করেছে সিআইডি।
